পঞ্চগড়–১ আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে সারজিস আলম
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সময়: ০৮:০৪:৫৯
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ে নির্বাচনী মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পঞ্চগড়–১ আসন (পঞ্চগড় সদর, আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়া) নিয়ে গঠিত এই আসনটি জাতীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত।
৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন জুলুম-নির্যাতনের শিকার জামায়াতে ইসলামীর পঞ্চগড় জেলা আমীর ইকবাল হোসাইন গত দেড় বছরে সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে দলটিকে একটি জনপ্রিয় অবস্থানে নিয়ে যান। পরবর্তীতে নির্বাচনী জোট গঠনের মাধ্যমে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম মাঠে নামেন।দলটির নির্বাচনী প্রতীক শাপলা কলি।
জোটগত রাজনীতির কারণে সারজিস আলম বর্তমানে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তার সঙ্গে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ইকবাল হোসাইন। তারা একসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণা, সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন ফলে জনমনে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে । সেই সঙ্গে খেলাফতে মজলিসের সভাপতি মীর মুর্শিদ তুহিন, জাগপাসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও সক্রিয় রয়েছেন। গ্রাম, ইউনিয়ন ও শহর পর্যায়ে নিয়মিত গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী নওশাদ জমির (ধানের শীষ প্রতীক ) বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে তুলনামূলক দেরিতে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন। যদিও তার পিতা ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ছিলেন, যার একটি রাজনৈতিক প্রভাব এখনো এলাকায় বিদ্যমান।
তবে জুলাই বিপ্লবের পর এই আসনে রাজনৈতিক চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ সমন্বয়ক সরাসরি সারজিস আলমের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। জেলা সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন,“জুলাই বিপ্লবকে রক্ষা করতেই আমরা সারজিস ভাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। তাই বাংলাদেশ জোটকে সমর্থন দিচ্ছি।”
তরুণ ভোটারদের মধ্যেও সারজিস আলমের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। নতুন ভোটার হাবিব বলেন,“আমরা নতুন ভোটার। জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়া সারজিস আলমকেই সমর্থন দিতে চাই।”
অটোচালক জাহিদ বলেন,“রাস্তায় চাঁদাবাজি আর দেখতে চাই না। তাই এবার জামায়াতে ইসলামীর জোটকে ভোট দেওয়ার নিয়ত করেছি।”
দোকানদার শফিক জানান,“এবার নতুন নেতৃত্ব দেখতে চাই।”
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
অন্যদিকে হায়দার নামে এক ভোটার জানান, তিনি ধানের শীষে ভোট দেবেন; কারণ হিসেবে তিনি নওশাদ জমিরের পিতার অবদানের কথা উল্লেখ করেন।শ্রমিক রায়হান বলেন,“যারা জুলুম করবে না, তাদেরকেই ভোট দেব।”
মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, সারজিস আলমের পক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, মহিলা জামায়াত, ইসলামী ছাত্রশিবির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, খেলাফতে মজলিস, জাগপাসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে টিম গঠন করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
সেই সঙ্গে সারজিস আলমের সভা-সমাবেশগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ঢল লক্ষ করা যাচ্ছে। উঠান বৈঠক, পথসভা এবং নারীদের নিয়ে আলাদা সভাগুলো ইতোমধ্যে আসনটিতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমিরের পক্ষে বিএনপির বাইরে জোটসঙ্গীদের তেমন সক্রিয়তা মাঠে চোখে পড়েনি।
No Comment Yet