ইউক্রেনে ৪৫০ ড্রোন হামলা

ইউক্রেনের ৫টি অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, গত প্রায় চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধে এর আগে কখনো দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এত বড় হামলা রুশ বাহিনী পরিচালনা করেনি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, আগের ইউক্রেনের ৫ অঞ্চলের বিদ্যুৎ উপৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে ৪৫০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন এবং ৭০টি বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন প্রদর্শন করতে কিয়েভ সফরে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। ন্যাটো মহাসচিবের এই সফরের প্রতিক্রিয়াতেই রুশ বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর কিয়েভ টাইমসের।
ইউক্রেনের বেসরকারি বিদ্যুৎ পরিষেবা কোম্পানি ডিটেক এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, হামলাটি ছিল ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় আক্রমণ। রাশিয়ার ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোম্পানির ১০ জন কর্মচারী আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে ডিটেক। এমন এক সময়ে ইউক্রেনে এই হামলা চালাল রুশ বাহিনী যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের বৈঠক চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। টেলিগ্রামবার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনে এখন মাইনাস ১৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা চলছে। রাতে প্রায় সময়েই তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের মধ্যে সীমাহীন ভোগান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এই হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ঠান্ডা আবহাওয়ার সময় কিয়েভ ও বিভিন্ন শহরে হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছেন। কিয়েভ থেকে এএফপি এ খবর জানায়। ক্রেমলিন জানায়, এই যুদ্ধবিরতি রবিবার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে তাপমাত্রার সঙ্গে এর কোন যোগসূত্র নেই। ইউক্রেনের দাবি, মস্কো যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা চালিয়ে গেছে। কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো মঙ্গলবার টেলিগ্রামে বলেন, প্রচ- শীতের মধ্যে রাতে কিয়েভে আরেকটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। তিনি রাজধানীর বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে অনুরোধ জানান।

পরে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, এতে দুইজন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক সামরিক প্রধান ওলেগ সিনেগুবভ জানান, পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভেও রুশ গোলাবর্ষণে দুইজন আহত হয়েছেন। টেলিগ্রামে তিনি লেখেন, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই হামলায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল সর্বোচ্চ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ও তীব্র তুষারপাতের মধ্যে শহরকে তাপহীন করে ফেলা। রাতে কিয়েভে তাপমাত্রা মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। খারকিভে তা নেমে যায় মাইনাস ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। প্রসঙ্গত, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার ইউক্রেনে আগ্রাসনের চার বছর পূর্ণ হবে।

বিজ্ঞাপন

Shwapno Super Shop

0%
0%
No Comment Yet