মাদারীপুর টেকেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের একশ’ একর জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: রবিবার, ১০ মে ২০২৬ সময়: ১৬:১৩:৩৪
মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার ২৮নং নাগরদী মৌজায় বি আর এস ৪১৮৩ নং দাগ, যা বি আর এস ৪ নং খতিয়ানের জমি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে রেকর্ডভুক্ত তথা সরকারি সম্পত্তি। কিন্তু উক্ত সম্পত্তি শহীদ শেখ, পিতা মৃত সফিজ উদ্দিন শেখ ভোগদখল করে খাচ্ছে। এই ভূমি দস্যুর ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ের মতো ক্ষমতার দাপট এখনো বহাল রয়েছে। শুধু তাই নয় রীতিমতো দোকান তৈরি করে পজিশন ভাড়া দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন।
তাহলে কি জোর যার জমি তার, আইন আছে প্রয়োগ নাই?
এই প্রশ্নই এখন এলাকাবাসীর।
সরকারি জমি দখল করলে রাষ্ট্রের আইন কি বলে..
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে জবর দখল করলে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৪৭ ও ৪৪৮ ধারা অনুযায়ী, অবৈধভাবে জমি দখল বা ঘরে প্রবেশ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন [০.৫.১]।জমি দখলের শাস্তিসমূহ:কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড: সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বা দখল করলে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ করা হয় এবং শাস্তিস্বরূপ কারাদণ্ড বা জরিমানা করা হয় [০.৫.৩]।উচ্ছেদ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা: জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ড উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারে এবং অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলতে পারে [০.৫.৪]।রেকর্ড সংশোধনী: দখলকৃত জমির রেকর্ড সংশোধন করে অবৈধ দখল বা দলবদ্ধ দখল: যদি একাধিক ব্যক্তি মিলে (দলবদ্ধভাবে) জমি দখল করে, তবে তা দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮ ধারা অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
তাহলে আইন আছে, প্রয়োগ করা হচ্ছে না কেন? এই দখলদার বাহিনীর সঙ্গে তবে কি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারি সিন্ডিকেট জড়িত?
অনুসন্ধানে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেদখল হওয়া প্রয় একশ’ একর সম্পত্তি উদ্ধারে জনস্বার্থে সচেতন মহল থেকে সরকারের সব প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ করে এখন ভূমি দস্যুদের হুমকির মুখে দিনাতিপাত করছেন তারা।
একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে,
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
এদের পেছনে রয়েছে বিশাল অদৃশ্য শক্তি। যার কারণে তারা অবৈধ ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে দোকান পাট ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছে, এবং ভাড়া আদায় করছে।
এদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি দখল করার অভিযোগ করলে,পানি উন্নয়ন বোর্ড সরেজমিন তদন্ত করে উচ্ছেদের চিঠি দেয়। কিন্তু চিঠি দেয়ার পর ভূমিদস্যু শহীদ গংরা, আইন কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বসতি নির্মাণ করেই যাচ্ছে।এই দখলদার ভূমি দস্যুদের কবল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি উদ্ধার করতে চিঠি যে দেয়া হয়পছে তার স্মারক নং ১/২০২৬/১, তারিখ ২৮/০১/২০২৬ এবং স্মারক নং টেকের-১/২০২৬/২, তারিখঃ ০৭/০৪/২০২৬।
কিন্তু চিঠি দেয়ার পরেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না কেন?। তাহলে কি লোক দেখানো চিঠি দেয়া হয়? শহীদ শেখ গংদের উচ্ছেদের ব্যাপারে। এদের খুঁটির জোর কোথায়?
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল ও অবৈধ স্থপনা অপসারণ করতে,
অত্র দপ্তরের সার্ভেয়ায় ফরহাদ হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয় গত ২৮ জানুয়ারি। সরেজমিন পরিদর্শনও করেছেন তিনি। মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার ২৮নং নাগরদী মৌজায় বি.আর.এস ৪১৮৩ নং দাগ, বি.আর.এস ৪ নং খতিয়ান ভুক্ত সম্পত্তি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নামে রেকর্ড রয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি উদ্ধার করতে উদ্যোগ নেয়া হয় গতানুগতিক ভাবে। সম্পত্তি থেকে ভূমিদস্যু শহীদ শেখদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। কারণ এরা রাষ্ট্রের আইন মানেন না। এদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ যে সরকারি সম্পত্তিতে সেমিপাকা টিনসেড ঘর নির্মাণ করে এবং শ্রেণী পরিবর্তনের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। যা সম্পুর্ন আইনবহির্ভূত ও অবৈধ। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবৈধভাবে সরকারি জমি আত্মসাৎ ও জালিয়াতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারে।
এই অবৈধ সেমিপাকা টিনসেড ঘর, ও দোকান পাট সরিয়ে পাউবোর সম্পত্তি খালি করে দিতে বলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যদি খালি করা না হয় তাহলে প্রশাসন ইমারত গুড়িয়ে দখল পুনরুদ্ধার করবে এটাই অ ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে বলা হয়েছে। কিন্তু
এই সব অবৈধ দখল দারদের কাছ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারে কেন এতো গড়িমসি? । এই ভূমিদস্যু শহীদ শেখদের ক্ষমতার কাছে মাদারীপুরের প্রশাসন কি অসহায়?। দেশ প্রেমিক সচেতন মহল থেকে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাদারীপুর জেলা প্রশাসনসহ সকল দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগ বা
সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার নিশ্চিত করার জন্য,২০২৫ সালের জুন মাসে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে [০.৫.৬]।বিশেষ সতর্কতা:পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণ করা সম্পত্তিতে কোনো ধরনের ভবন, পাকা স্থাপনা বা ঘর নির্মাণ করলে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং উচ্ছেদযোগ্য [০.৫.৩]। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় জমি দখল করলেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় [০.৫.৭]। তবে রাষ্ট্রের আইন যদি ভূমি দস্যুদের জন্য সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় তাহলে,
সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হবেনা। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন আইনের প্রয়োগ করছে না এমন গুঞ্জন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। তাহলে কি মোটা অংকের টাকার খেলা চলছে অদৃশ্যভাবে?এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।
No Comment Yet