কাঠামোগত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার-ব্যবসায়ী সমন্বয় জরুরি : বিডা চেয়ারম্যান
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ সময়: ০৯:৩৮:১৫
ঢাকা, ১১ মে, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, দেশের কাঠামোগত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বিনিয়োগনির্ভর টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় জরুরি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতি শুধু নীতিমালা প্রণয়নের ওপর নির্ভর করবে না, বরং রাষ্ট্রের কার্যকরভাবে সংস্কার বাস্তবায়ন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সক্ষমতার ওপর বেশি নির্ভর করবে।’
সোমবার রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘বাণিজ্য নীতি, শিল্প সুরক্ষা, বিনিয়োগের প্রভাব ও ভোক্তা কল্যাণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দ্য পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) সেন্টার ফর ট্রেড অ্যান্ড প্রটেকশন পলিসি রিসার্চ (সিটিপিপিআর) বাণিজ্যনীতি, শিল্প সুরক্ষা এবং এর বিনিয়োগ ও ভোক্তা কল্যাণের ওপর প্রভাব বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ এবং নীতিনির্ধারণী বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
সেশনের সভাপতিত্ব ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি সুরক্ষাবাদী নীতিমালার প্রভাব দেশীয় শিল্প ও ভোক্তাদের পছন্দের ওপর কীভাবে পড়ে তা তুলে ধরেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ও ভোক্তা কল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বাণিজ্য ও ভ্যাটের আর্থিক দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। অন্যদিকে, পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বৃহত্তর অর্থনৈতিক নীতিকাঠামো নিয়ে বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।
বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে সব অংশীজনের মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য থাকলেও বাস্তবায়ন ঘাটতির কারণে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
Dutch-Bangla bank New account opening free visa debit card
আশিক চৌধুরী বলেন, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা, সুশীল সমাজ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে একমত হলেও কার্যকর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের মূলধন হিসাব শক্তিশালী করতে বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগ দেশের শিল্পোন্নয়নের মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
তার মতে, উন্নত অর্থনীতিগুলোর মতো বাংলাদেশেও স্থানীয় বিনিয়োগই অর্থনীতির ‘সিংহভাগ’ হিসেবে অব্যাহত থাকবে।
বিডা প্রধান আরও বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল ক্রমেই টেকসই প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে, যা আর্থিক পরিকল্পনা ও জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যে প্রতিফলিত হচ্ছে।
বিডা চেয়ারম্যান জানান, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ৪৬টি খাতভিত্তিক ডিরেগুলেশন প্রস্তাব এবং বিনিয়োগ প্রচার সংস্থার ১৯টি অতিরিক্ত সুপারিশ জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা ও শিল্পখাতসমূহে অভিন্ন সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে মূল বিষয়, যা অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে।’ এ সময় তিনি কৌশলগত পরিকল্পনাকে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়নে রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সমন্বিত নীতিনির্ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নত অর্থনীতির বিভিন্ন দেশে অনুসৃত মিনিস্ট্রি অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমআইটিআই) মডেলে বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ নীতিগুলো ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
তবে তিনি বিদেশি মডেল অন্ধভাবে অনুসরণের বিপক্ষে সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্থানীয় সমাধান প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের চ্যালেঞ্জও ইউনিক, পরিবেশও ইউনিক।’
No Comment Yet