পিপিপি ভিত্তিতে প্রথম সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘মার্কেট সাউন্ডিং’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ সময়: ২৩:৪৫:৪৬
ঢাকা, ১৪ মে, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে দেশের প্রথম সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘মার্কেট সাউন্ডিং’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পিপিপি কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আজ এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
কর্মশালায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের শতাধিক উদ্যোক্তা এবং বিদ্যুৎ বিভাগ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), স্রেডাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ফেনীর সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত ১৩০ থেকে ১৪০ মেগাওয়াট গ্রিড-টাইড সোলার পাওয়ার প্লাস ব্যাটারি স্টোরেজ প্রকল্পের বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়। বেজার মালিকানাধীন ৪১২ একর জমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় সরকারি জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রণীত ‘গাইডলাইনস ফর ডেভেলপমেন্ট অব রিনিউএবল এনার্জি প্রজেক্টস ইউজিং ল্যান্ড ওন্ড বাই গভর্নমেন্ট এজেন্সিস আন্ডার পিপিপি মডালিটি, ২০২৬’ও উপস্থাপন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, সৌর বিদ্যুৎ বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। বাংলাদেশও এ খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী জুনের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগবান্ধব নতুন নীতিমালা ঘোষণা করা হতে পারে, যা সৌর বিদ্যুৎ খাতে পোশাক শিল্পের মতো বিপ্লব ঘটাবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করবে, যাতে তারা বিনিয়োগের যথাযথ রিটার্ন পান।
বিশেষ অতিথি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। সৌর বিদ্যুৎ-এ চাপ কমানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, সোনাগাজী প্রকল্পটি কেবল একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, বরং সরকারি অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি অনুসরণযোগ্য মডেল। তিনি জানান, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটির ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে কারিগরি সেশন ও গাইডলাইন উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটি পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক স্ক্রিনিং শেষে ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় নীতিগত অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল এক সভায় এটিকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া গত ৭ মে বেজা ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সম্ভাব্যতা যাচাই, আর্থিক মডেলিং, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেবে।
No Comment Yet