গবেষণা ও উদ্ভাবনই টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি : যবিপ্রবি উপাচার্য

যশোর, ১৫ মে, ২০২৬ (বাসস) : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেছেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনই টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি। বর্তমান বিশ্ব এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে যুদ্ধ ও অস্থিরতা, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি অনিরাপত্তা এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার মতো নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ মানবজাতিকে গ্রাস করেছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে কেবল নীতি-নির্ধারণী আলোচনা যথেষ্ট নয়, বরং সংকল্পবদ্ধ গবেষণা ও উদ্ভাবন প্রয়োজন।

আজ সকাল ১০টায় যবিপ্রবির জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের আয়োজনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য এসব কথা বলেন। 
কনফারেন্সে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি’র উপাচার্য বলেন, আমাদের দেশের জন্য বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে টেকসই পদ্ধতির সমন্বয় ঘটানো এখন আর কোনো বিকল্প নয় বরং এটি আমাদের ভবিষ্যৎ ও মানবতার জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, সভ্যতার শুরু থেকেই প্রকৌশল বিদ্যা সমাজকে আধুনিক সমাজে রুপান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট কৃষি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কিংবা পরিবেশবান্ধব উৎপাদন থেকে টেকসই পরিবহন-প্রকৌশলগত উদ্ভাবন আমাদের সমাজকে প্রতিনিয়ত বদলে দিচ্ছে।

উপাচার্য সবাইকে মনে করিয়ে দেন যে, প্রযুক্তিগত এই অগ্রগতি অবশ্যই নৈতিক দায়বদ্ধতা, পরিবেশ সচেতনতা এবং সামাজিক সমতার ভিত্তিতে হতে হবে। প্রকৃত উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে পরিবেশ রক্ষা, মানুষের কল্যাণ এবং ন্যায়বিচার।

তিনি আরও বলেন, এই রুপান্তরের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। শ্রেষ্ঠত্ব এবং উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যারা কেবল প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষই হবে না, বরং সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল এবং বিশ্বজনীন সচেতনতাসম্পন্ন মানুষ হবে।

কনফারেন্সে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তানের ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউইটি) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উসমান গণি খান। 

তিনি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ এর ওপর গবেষণামূলক তথ্য স্লাইড আকারে উপস্থাপন করেন।

এছাড়াও ভার্চুয়ালি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফান্ডাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের (এমইউএন) প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম আহমেদ।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের টেকসই উন্নয়নের ওপর কেনো গুরুত্ব দিতে হবে এবং এই ধরনের গবেষণার চাহিদা বিশ্বে কতটুকু গুরুত্ব বহন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। 

কনফারেন্সে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর শুরু হয় পোস্টার প্রেজেন্টেশন ও টেকনিক্যাল সেশন। বিকেল সাড়ে ৪টায় পুরষ্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শেষ হয়।

প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের আয়োজনে আন্তর্জাতিক এ কনফারেন্সে আহ্বায়ক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উক্ত অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইমরান খান। 

এছাড়াও কনফারেন্সে কো-কনভেনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন যবিপ্রবি’র পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এইচ এম জাকির হোসেন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুল ইসলাম এবং কনফারেন্সের সেক্রেটারি ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

0%
0%
No Comment Yet