যুক্তরাজ্যে আইসেসকো’র সংলাপে শিক্ষামন্ত্রী, নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ সময়: ২৩:৩০:০৪
ঢাকা, ২১ মে, ২০২৬ (বাসস): শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান সরকার সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, আনন্দময় ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষণকে উৎসাহিত করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, যেখানে প্রতিটি শিশু সমানভাবে শেখার, বেড়ে ওঠার এবং বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ‘ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন’ (আইসেসকো) আয়োজিত মন্ত্রীদের এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আজ ঢাকায় প্রাপ্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংলাপে বাংলাদেশে মেয়েদের শিক্ষার অভূতপূর্ব অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে নারী শিক্ষার টেকসই ও কাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রাথমিক ও যুগান্তকারী উদ্যোগগুলো গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মেয়েদের জন্য শিক্ষার সুযোগের ব্যাপক সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যার সুফল দেশ আজ ভোগ করছে।’
উচ্চপর্যায়ের এই সেশনের পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মূল বক্তা নাইজেরিয়ার এডো অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর মি. গডউইন ওবাসেকির সঙ্গে এক একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে মি. ওবাসেকি এডো অঙ্গরাজ্যে ডিজিটাল শিক্ষার অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাবলেট’ উদ্যোগের সফল অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
তিনি বলেন, এই প্রযুক্তিগত উদ্যোগটি অঙ্গরাজ্যটিকে সমগ্র নাইজেরিয়ার অন্যতম সফল শিক্ষা অঞ্চলে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
উল্লেখ্য, আইসেসকো মূলত শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন অগ্রসর করতে কাজ করে থাকে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
আইসেসকো’র সংলাপ শেষে শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী হাউস অব লর্ডসে তার সম্মানে আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
এ সময় ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন (টিএনই), মানসম্মত শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা, এডটেক সহযোগিতা, পাঠ্যক্রম সংস্কার, উদ্ভাবনী হাব প্রতিষ্ঠা, তৃতীয় ভাষা প্রশিক্ষণ এবং গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের যোগ্যতা বৃদ্ধি প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন জোর দিয়ে বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক শিক্ষাকে বর্তমান যুগের শিল্পের চাহিদার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে হবে, যাতে অর্জিত শিখন দক্ষতা সরাসরি কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মদক্ষতায় রূপান্তরিত হতে পারে।’
আলোচনায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যেকোনো ধরনের অপব্যবহার রোধ করে ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশনের (টিএনই) কার্যকর সম্প্রসারণের বিষয়েও কথা বলেন।
No Comment Yet