বিশ্বকাপ ২০২৬ : ৪৮ দল সর্ম্পকে যা জানা দরকার (শেষ চারটি গ্রুপ)
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ সময়: ১৪:১২:৩৩
ঢাকা, ৯ জুন ২০২৬ (বাসস) : ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ভিত্তিক দলগুলো পর্যালোচনা এখানে তুলে ধরা হলো :
গ্রুপ-আই : ফ্রান্স, সেনেগাল, ইরাক, নরওয়ে
গতবার কাতারে রানার্স-আপ ফ্রান্স চার বছর আগের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। তবে শেষবার যখন তারা বিশ^কাপে নিজেদের অভিযান শুরু করেছিল সেনেগালের বিপক্ষে, তখন তারা ছিল শিরোপাধারী চ্যাম্পিয়ন। আর ২০০২ সালের সেই উদ্বোধনী ম্যাচে লেস ব্লুসরা হতাশাজনক পরাজয় বরণ করেছিল। ভারসাম্যপূর্ণ দল এবং আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী সাম্প্রতিক রেকর্ড নিয়ে সেনেগালের “লায়ন্স অব তেরাঙ্গা”-দের জন্য চার বছর আগে শেষ ষোলোতে ওঠার সাফল্য পুনরাবৃত্তি করা সম্ভব বলেই মনে হচ্ছে।
গ্রুপের আরেক দল ইরাক চার দশক পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে। কঠিন একটি গ্রুপে পড়লেও ইরাকের প্রধান কোচ গ্র্যাহাম আর্নল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তবে বাস্তবতা হলো, ২০২৬ বিশ্বকাপ তাদের জন্য আগামী বছরের এএফসি এশিয়ান কাপ এবং ভবিষ্যতের বড় লক্ষ্যগুলোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি ভিত্তি তৈরির মঞ্চ।
ফ্রান্স ও সেনেগাল গ্রুপ পর্বে কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও, দলে যদি আর্লিং হালান্ডের মতো একজন খেলোয়াড় থাকেন, তাহলে নরওয়ের জন্য সবকিছুই সম্ভব। অন্তত তৃতীয় স্থান নিয়ে হলেও তাদের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পারলে তারা এমন একটি দল হবে, যার মুখোমুখি কেউই হতে চাইবে না।
সূচী :
১৬ জুন : ফ্রান্স বনাম সেনেগাল, ইরাক বনাম নরওয়ে
২২ জুন : ফ্রান্স বনাম ইরাক, নরওয়ে বনাম সেনেগাল
২৬ জুন : নরওয়ে বনাম ফ্রান্স, সেনেগাল বনাম ইরাক
গ্রুপ-জে : আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শিরোপা ধরে রাখাই আর্জেন্টিনার প্রধান লক্ষ্য। কাজটি নিঃসন্দেহে কঠিন হবে, তবে তা তাদের নাগালের মধ্যেই আছে বলে মনে হচ্ছে। আর্জেন্টিনার দলে রয়েছে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, কৌশলগত সমন্বয় এবং সর্বোপরি ইতিহাস গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা। লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থদের প্রথম প্রতিপক্ষ হবে আলজেরিয়া। আলজেরিয়ার দলে উদ্দীপনার কোনো অভাব থাকবে না, আর তাদের শক্ত রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের গুণমান “লে ফেনেকস”-দের ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পৌঁছে দিতে পারে।
অস্ট্রিয়া একটি ভালো দল, কিন্তু যদি তারা গ্রুপে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করতে না পারে, তাহলে তাদের জন্য শেষ ৩২’র পর্বে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হওয়া প্রায় অবশ্যম্ভাবী বলে মনে হচ্ছে।
জর্ডানের জন্য এটি বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণ। আর যে কঠিন ড্র তারা পেয়েছে, তাতে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যাওয়ার মতো বড় কোনো অঘটন ঘটানো তাদের পক্ষে কঠিন বলেই মনে হয়। তবে তারা যদি অস্ট্রিয়া বা আলজেরিয়ার বিপক্ষে অন্তত একটি ইতিবাচক ফল অর্জন করতে পারে, সেটাই হবে তাদের সামর্থ্যে একটি বড় অর্জন।
সূচী :
১৬ জুন : আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া বনাম জর্ডান
২২ জুন : আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া, জর্ডান বনাম আলজেরিয়া
২৭ জুন : আলজেরিয়া বনাম অস্ট্রিয়া, জর্ডান বনাম আর্জেন্টিনা
গ্রুপ-কে : পর্তুগাল, ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া
বিজ্ঞাপন
anjara world
পর্তুগাল দলে তারকা খেলোয়াড়ের কোনো অভাব নেই, প্রায় প্রতিটি পজিশনেই রয়েছে উচ্চমানের ফুটবলার। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো চার বছর আগে কাতারে একাদশে নিজের স্থান হারানোর তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে সেরা ছন্দে ফিরতে মুখিয়ে আছে। আর সেটা হলে পর্তুগাল ফাইনালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকা দলগুলোর মধ্যে অন্যতম হবে।
অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোকে তাদের ৫২ বছরের মধ্যে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে থামানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে। তবে তারা শুধু অংশগ্রহণ করেই সন্তুষ্ট থাকবে না, তাদের দলে অন্তত শেষ ৩২’এ ওঠার মতো সামর্থ্য রয়েছে।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া উজবেকিস্তান কঠিন একটি গ্রুপে পড়েছে। বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হবে কোনো একটি ম্যাচে অঘটন ঘটিয়ে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্বে পৌঁছানো। সেই অভিযান শুরু হবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে। কলম্বিয়ার প্রধান ভরসা লুইস দিয়াজ, আর দলের প্রতীকী নেতা হামেদ রদ্রিগেজ। তাদের লক্ষ্য হবে নিজেদের সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য- ২০১৪ বিশ^কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার অর্জন সমান করা বা সেটিকে ছাড়িয়ে যাওয়া।
সূচী :
১৭ জুন : পর্তুগাল বনাম কঙ্গো, উজবেকিস্তান বনাম কলম্বিয়া
২৩ জুন : পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া বনাম কঙ্গো
২৭ জুন : কলম্বিয়া বনাম পর্তুগাল, কঙ্গো বনাম উজবেকিস্তান
গ্রুপ-এল : ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা
ইংল্যান্ডের হাতে যে পরিমাণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে এবং তারা টানা সর্বশেষ দুটি ইউরোপিয়ন চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছেছে, তাতে নকআউট পর্বে অনেক দূর যেতে না পারলে সেটিকে বড় ধরনের হতাশা হিসেবে দেখা হবে। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার জন্য এবার হয়তো খুব বেশীদুর যাওয়া কঠিন হতে পারে, কারণ তাদের সোনালী প্রজন্মের অনেক খেলোয়াড় বয়সের কারণে ছন্দ হারিয়েছেন বা অবসর নিয়েছেন। তবুও তারা নকআউট পর্বে ওঠার প্রত্যাশা অবশ্যই করবে।
ঘানার মান তাদের ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে ভালো, তবে সাম্প্রতিক আফ্রিকান নেশন্স কাপে অংশ নিতে না পারায় এখনও পুনরুত্থানের পথে রয়েছে। কার্লোস কুইরেজের কিছুটা দেরিতে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দলের জন্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক, দুই ধরনের ফলই বয়ে আনতে পারে। তবুও নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনায় তারা এখনও বাইরের সারির দাবিদার হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে, পানামা গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করে নকআউট পর্বের লড়াইয়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে চাইবে। তাদের প্রথম ম্যাচটি হবে ঘানার বিপক্ষে, যা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। ইতিবাচক ফল দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে পারলে তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যাবে।
No Comment Yet