নারীর ক্ষমতায়নে কুটির শিল্পকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ সময়: ২২:২৯:২৮
সংসদ ভবন, ১৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, দরিদ্র ও অসহায় নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকার কুটির শিল্প ও হস্তশিল্প খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও আয়বর্ধক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে কাজ করছে।
আজ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-১০-এর সরকারি দলের সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঢাকা মিরপুর এবং রংপুরের শালবনে অবস্থিত দুটি আর্থ-সামাজিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নারীদের চামড়াজাত পণ্য তৈরি, ব্লক-বাটিক, ফুল তৈরি, উলের কাজ, পুতুল তৈরি, সেলাই, সূচিকর্ম, বিউটি পার্লার সেবা, গার্মেন্টস উৎপাদন এবং বাঁশ ও বেতশিল্প বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের নারীদের এমন ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের চাকরি কিংবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করছে।
জাহিদ হোসেন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের সেলাই, কাটিং, ব্লক, বাটিক ও হস্তশিল্প বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তারা আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
তিনি জানান, প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে উপকারভোগীদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
মন্ত্রী বলেন, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে বর্তমানে ‘প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এছাড়া ‘বিশ্ব মহামারির প্রেক্ষাপটে জয়পুরহাট জেলার প্রান্তিক কৃষক, প্রতিবন্ধী, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, বিধবা ও পরিত্যক্ত নারীদের আয়বর্ধক কার্যক্রমের মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পও নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একই সংসদ সদস্যের আরেক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি ‘বয়স্ক ভাতা বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৩’ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। দরিদ্র, সীমিত আয়ক্ষমতাসম্পন্ন এবং জীবিকা নির্বাহে অক্ষম প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন উপকারভোগীর তালিকা প্রস্তুত এবং বিদ্যমান তালিকা হালনাগাদ করা সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রম এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
মন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা এবং মাসিক ভাতার হার সময় সময় পর্যালোচনা করে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাতার পরিমাণ এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়।
No Comment Yet