শামীম ঝড় ম্লান করে নায়ক ওমরজাই
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬ সময়: ০৯:১৯:১৬
যে পারে- সে সব জায়গায় পারে, যে কোনো সময়েই পারে। ছোট্ট ফরম্যাটের ধুন্ধুমার টি২০ ক্রিকেটে আফগানরা কতটা পারঙ্গম, সেটিই দেখালেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। দুবাই থেকে রাতে বিপিএলে পা রেখে দুর্দান্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দুপুরেই ক্লোজ ম্যাচে সিলেট ক্যাপিটালসকে উপহার দিলেন ৬ রানের নাটকীয় এক জয়।
দুদিন বিরতির পর প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সিলেটে বৃহস্পতিবার শুরু দিনের প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটে ১৭৩ রানের ‘চ্যালেঞ্জিং’ স্কোর গড়ে মেহেদি হাসান মিরাজের দল। জবাবে ৮ উইকেটে ১৬৭ রানে থামে মোহাম্মদ মিথুনের ঢাকা ক্যাপিটালস। বিফলে যায় শামীম পাটোয়ারির ৪৩ বলে অপরাজিত ৮১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। মাত্র ২৪ বলে ৫০ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংসের পর বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা ওমরজাই। আসরে তৃতীয় ম্যাচে সিলেটের এটি দ্বিতীয় জয়।
ম্যাচ শুরুর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে ওঠে খালেদা জিয়ার ছবি। পাশে লেখা ‘আমরা শোকাহত’। দুই দলের ক্রিকেটাররা মাঠে প্রবেশ করেন, সঙ্গে কোচিং স্টাফরাও। খালেদা জিয়ার সম্মানে পালন করা হয় নীরবতা। এ সময়ে দোয়া করতে দেখা যায় কাউকে কাউকে। এর আগে গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থগিত করা হয়েছিল বিপিএলের দুটি ম্যাচ। ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফরা সেদিন বেগম জিয়ার গায়েবানা জানাজা আদায় করেন। স্থগিত ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে রবিবার। রান তাড়ায় ঢাকা লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে পাওয়ার প্লেতেই।
রান তখন ৫ উইকেটে ৪৩। এরপর সাব্বির হোসেন ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি চেষ্টা করেন দলকে লড়াইয়ে ফেরাতে। সেই প্রচেষ্টা খুব দীর্ঘায়িত হয়নি। দুটি ছক্কা মারার পর আরেকটির চেষ্টায় উইকেট হারান সাব্বির (১৯ বলে ২৩)। ঢাকার ইনিংসের বাকিটুকু শুধুই শামীমের গল্প। তিনি ছন্দে থেকে যেমন খেলেন, এই ইনিংসে ছিল সেসবের সবটুকুই। আগ্রাসন, পেশির জোর আর উদ্ভাবনী শট, ছিল সবই। আমির ও ওমরজাইয়ের টানা দুই ওভারে ইমাদ ওয়াসিম ও সাইফ উদ্দিন আউট হওয়ার পর শেষ তিন ওভারে ৫৬ রান প্রয়োজন হয় ঢাকার। শামীম তখন খেলছেন ২৭ বলে ৩৭। খালেদকে ছক্কা মেরে তার শেষের ঝড়ের শুরু। ১৯তম ওভারে ওমরজাইকে মারেন দুটি চার ও একটি ছক্কা। শেষ ওভারে ছিল ২৭ রানের প্রায় অসম্ভব সমীকরণ।
সেখানেও ম্যাচ জমিয়ে দেন শামীম। মোহাম্মদ আমিরের মতো বোলারের ওভারে রিভার্স স্কুপে একটি ছক্কাসহ চার মারেন তিনটি। কিন্তু শেষ বলটিতে পাকিস্তানি পেসার উতরে যান অভিজ্ঞতা দিয়ে। নবম উইকেটে ২২ বলে ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তাসকিনের অবদান ৫ বলে ৩, শামীমের ১৭ বলে ৪৫! ২৪ বলে ৫০, এরপর ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ বলে খেলেন ক্যারিয়ারসেরা ৭৯ রানের ইনিংস। বিপিএলে ২১ ম্যাচে তার প্রথম ফিফটি এটি। পরে বল হাতে উইকেট নেন তিনটি। অপরাজিত থাকেন শামীম। এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে সিলেটের শুরুটা ভালো ছিল না। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে রান তুলতে পারে মাত্র ৩৪।
দ্বিতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদকে দুটি চার মেরে তালুকদার বিদায় নেন পরের ওভারে সালমান মির্জার বলে। মিড অনে দারুণ ক্যাচ নেন সাব্বির রহমান। পরের ওভারেই তাসকিনের স্লোয়ারে উইকেট হারান তিনে নামা মিরাজ। ফর্মে থাকা পারভেজ হোসেন ইমন ক্রিজে যাওয়ার পর রানের গতি বাড়ে একটু। নবম ওভারে নাসির হোসেনকে ছক্কা মারার পর সাইফ উদ্দিনকেও ছক্কায় উড়িয়ে দেন তিনি সোজা ব্যাটে দৃষ্টিনন্দন শটে। প্রথম ১২ ওভারে কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেননি সাইম। তার রান তখন ৩১ বলে ২২। পরে একটি ছক্কা মারতে পারেন তিনি পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে। পরের বলেই জীবন পেয়ে আউট হয়ে যান তিনি ওই ওভারেই। ৩৪ বল খেলে রান করতে পারেন মাত্র ২৯। পারভেজ ইমনের ইনিংস শেষ হয় ঠিক পরের ওভারেই। সাইফ হাসানের বলে ক্যাচ দেন তিনি প্রিয় সুইপ খেলে।
বিজ্ঞাপন
DBBL Deposit Plus Scheme (DPS) ; Interest Rate 2025
চার নম্বরে আগের দুই ম্যাচে ৬৫ ও ৬০ রানের ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যান এবার করেন ৩২ বলে ৪৪। ওমরজাই ক্রিজে গিয়ে চারটি ডেলিভারি দেখে খেলেন। এরপর তোলেন ঝড়। তাসকিনের এক ওভারে বাউন্ডারি মারেন তিনটি। এরপর শেষের আগের ওভারে দুটি ছক্কা দুটি চার মারেন সালমান মির্জাকে। তাতে অবদান আছে প্রতিপক্ষেরও। ১৫ ও ২৭ রানে জীবন পান তিনি। দুবারই ক্যাচ ছাড়েন শামীম হোসেন। শেষ ওভারে তাসকিনকে প্রথম বলে ছক্কা ও শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে পৌঁছে যান তিনি পঞ্চাশে। শেষদিকে ৬ বলে ১৩ রান করেন ইংলিশ অলরাউন্ডার ইথান ব্রুকস। জুটিতে আসে ২০ বলে ৫১ রান। শেষ ৫ ওভারে ৭৪ রান তুলে বড় সংগ্রহ পায় সিলেট।
No Comment Yet