শরীরে আগুন দিয়ে ব্যবসায়ী হত্যা, পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসক
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬ সময়: ২০:৪৪:০৭
ডামুড্যার ছুরিকাঘাতের পর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া ওষুধ ব্যবসায়ী খোকন দাসের সৎকারের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অনুদান প্রদান করা হয়। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১ টায় তার স্ত্রী সীমা দাসের হাতে এই অনুদানটি দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সালাহউদ্দিন আইয়ূবী।
এ সময় আইয়ূবী বলেন, খোকন চন্দ্র দাসের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে।
এ ছাড়া তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সার্বিক সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। তারই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে নিহত খোকন দাসের সৎকার কার্যের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে তার পরিবারকে ২০,০০০ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
এ সময় তার সাথে ডামুড্যা থানা অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ রবিউল হক ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট অমিত ঘটক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে সারা দিনের বিক্রির টাকা নিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন খোকন চন্দ্র দাস। এ সময় ডামুড্যা-শরীয়তপুর সড়কে কেউরভাঙ্গা বাজারের অদূরে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশার গতিরোধ করে তাঁকে মারধর শুরু করে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাঁর মাথা ও মুখমণ্ডলে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হামলা থেকে বাঁচতে খোকন চন্দ্র দাস সড়কের পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হলেও শরীরের বড় একটি অংশ পুড়ে যাওয়ায় এবং আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে খোকন দাস মারা যান।
No Comment Yet