ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতিতে অগ্রগতি নেই, বরাদ্দ নিয়ে অনিশ্চয়তা

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নিয়ে আগেভাগে প্রস্তুতি  চলে জোরকদমে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রগুলোকে সংস্কারে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (ইইডি) চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বরাদ্দ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে উদ্যোগ নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ খরচ ও উদ্যোগে কেন্দ্র প্রস্তুত করতে পারে।
২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে একটি চিঠি জারি করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন সূচি ঘোষণা করেছে। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন প্রতিষ্ঠান/ স্থাপনাসমূহ সংস্কার, মেরামত, ভোটকেন্দ্রে সিসিক্যামেরা স্থাপন, রাস্তা সংস্কার বা মেরামতের প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সম্মতির প্রয়োজন হবে না বলে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই চিঠি স্থানীয় সরকার সচিব ও ইইডি প্রধান প্রকৌশলীকে দেওয়া হয়। 
শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, এমন নির্দেশনার পর দপ্তরগুলোতে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বলছেন, এ বিষয়ে সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। ফলে তারা কোনো অর্থও দিতে পারবেন না। এখন এই সংস্কার কিভাবে সম্ভব তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তারা বলছেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দিনের আলোতে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ বেলা থাকতেই শেষ হয় ক্লাস। ফলে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্যানের ব্যবস্থা থাকলেও বৈদুত্যিক বাতির ব্যবস্থা নেই। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদুৎ সংযোগ নেই।

এছাড়াও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আগের রাত থেকেই ওই কেন্দ্রে অবস্থান করতে হয়। সে কারণে পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধার ব্যবস্থারও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া না পাওয়ায় স্থাপনার দায়িত্বশীলরা বেকায়দায় আছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোটগ্রহণ করতে এবার বিকেল ৫টা বাজবে। এরপর গণনার বিষয় রয়েছে। সেটি করতেও সময় লাগবে। এজন্য বৈদ্যুতিক সুবিধা ও বাতির কোনে বিকল্প নেই।
ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ জনকণ্ঠকে জানান, বরাদ্দের বিষয় সুস্পষ্ট কোনো বার্তা না থাকায় ৬ জানুয়ারি ঢাকার সকল শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্বাচনকালীন চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যে সকল ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে সেসব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন/সংস্কার প্রতিষ্ঠান/স্থাপনাসমূহে সংস্কার/ মেরামত, বুথসমূহ ও আঙ্গিনায় বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা এবং টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রতিষ্ঠানসমূহে নির্দেশনা প্রদান করার জন্য অনুরোধ করা হলো। সিসি ক্যামেরা এবং বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল হতে বিধি মোতাবেক খরচ করা যেতে পারে। তবে শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, এই ব্যয় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্বাহ করাও সম্ভব নয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর প্রদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। নিজস্ব প্রকৌশল বিভাগ না থাকায় এই দপ্তরের ওপর নির্ভরশীল তারা। অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়, কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।
জানতে চাইলে ইইডি প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী জনকণ্ঠকে বলেন, এমন বার্তার বিষয়ে আমার এখনো কিছু জানা নেই। বিষয়টি আমি জেনে জানাতে পারবো। বরাদ্দের বিষয়েও তিনি কিছুই জানাতে পারেননি।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ‘দেশের ৬৪ জেলায় ৩০০ আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭ এবং মহিলাদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২ কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট কক্ষের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯। এটাই চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্র ও ভোট কক্ষের সংখ্যা।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোটকেন্দ্র স্থাপনের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেন ইসি সচিব। সেখানে বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে পুরুষ ও মহিলা ভোটকক্ষের পৃথক হিসাব করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ৬০০ পুরুষ ভোটারের জন্য একটি এবং ৫০০ মহিলা ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৪২ হাজার ১৫০টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৭২টি। এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে, তবে ভোটকক্ষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমেছে।

0%
0%
No Comment Yet