ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করতেই গণভোট: আলী রীয়াজ
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬ সময়: ১১:৫০:০৮
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ভবিষ্যতে যারা এই দেশ পরিচালনা করবেন, তারা যেন আর কখনোই ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারেন-তা নিশ্চিত করতেই এবারের গণভোট।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে ‘আসন্ন গণভোট এবং এনজিওদের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
কর্মশালায় এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়ার উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। কর্মশালায় দেশে নিবন্ধিত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সাড়ে চারশ এনজিও প্রতিনিধি অংশ নেন।
আলী রীয়াজ বলেন, বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ সাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্যই শাসকরা ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ পান। আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করে তাদের এই ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতে হবে। গণভোট আসলে কী বা কেন-এ নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই।
তিনি বলেন, অন্য সব সাধারণ নির্বাচনের মতোই হবে গণভোট। তবে গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত দেবে-আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে চলবে। আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের জন্য দুটি ব্যালট থাকবে। এর মধ্যে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যালটটি হবে সাদা। আর গণভোটের ব্যালট হবে রঙিন। গণভোটের বিষয়ে জনমত সৃষ্টি এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার।
বিজ্ঞাপন
Dutch Bangla bank Agent Banking
আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও বিগত সরকারের সময়ে যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, নির্যাতিত হয়ে হাসপাতালে ধুঁকছেন, তারা এই দায়িত্ব আমাদের দিয়ে গেছেন।’
তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব। গণভোটে জনগণের সম্মতির মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পথ সুগম হবে।
মনির হায়দার বলেন, পাকিস্তানি শাসনামলে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি দেশ, যেখানে নাগরিকদের অধিকার সমুন্নত থাকবে। তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে আমরা কাঙ্খিত সংস্কার করতে পারলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পথ সুগম হবে। অন্যথায় দেশ আবার ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দিলে একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আসবে। বিচার বিভাগের সংস্কার ও বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি দেশ পরিচালনার সব ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।
No Comment Yet