গাজার স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সে যেতে বাংলাদেশের বিশেষ প্রস্তাবনা!

গাজায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত 'আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী' বা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটন সফরে থাকা সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট আলিসন হুকার ও সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, গাজা ইস্যুতে বাংলাদেশের এই আগ্রহের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এই বিষয়ে ঢাকার সাথে একযোগে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। উল্লেখ্য যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের আগেই গাজায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই বিশেষ বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা সামনে এনেছিলেন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবেই সরকার এই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সাধারণত জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিলেও, গাজার এই বিশেষ বাহিনী যদি আন্তর্জাতিক কাঠামোর আওতায় গঠিত হয়, তবে তাতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ যৌক্তিক হতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাব এনাম খানের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এমন বড় উদ্যোগে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

বৈঠকে গাজা ইস্যু ছাড়াও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘ভিসা বন্ড’ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই কড়াকড়ি শিথিল করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল করতে ওয়াশিংটনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
Dutch-Bangla bank New account opening free visa debit card

Dutch-Bangla bank New account opening free visa debit card

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এই সফর এবং গাজায় সৈন্য পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশের বিষয়টি বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে এক বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

0%
0%
No Comment Yet