এ ছাড়া বিদ্যমান ব্যবস্থায় সমাজের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বার্থ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ যথাযথভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এসব বিবেচনা করে কমিশন এককক্ষীয় আইনসভার কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলো মোকাবিলার জন্য দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিকে কঠিন করার লক্ষ্যেই সংবিধান সংশোধন বিল উভয় কক্ষে দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাসের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। কারণ, অতীতে বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, দলীয় ও ব্যক্তিস্বার্থে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। যদি একক দলের হাতে এই ক্ষমতা না থাকে, তাহলে সরকারি দল সংবিধান সংশোধন করতে চাইলে, কেন সংশোধন প্রয়োজন, তা অন্যদের বোঝাতে হবে। সবার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। একধরনের জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা যাবে না।
সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্র ছাড়া উচ্চকক্ষকে যে ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, তা অনেকটা আলংকারিক বলে মনে করেন সংসদ বিষয়ে গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চকক্ষের হাতে স্থায়ীভাবে আইন আটকানোর ক্ষমতা নেই। তাদের একমাত্র ক্ষমতা থাকবে সংবিধান সংশোধন বিলে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের যে ক্ষমতা প্রস্তাব করা হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিম্নকক্ষের আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হলে তা তেমন কোনো কাজের হবে না; নিম্নকক্ষ যা চাইবে উচ্চকক্ষ তাই করবে। পিআর পদ্ধতিতেই উচ্চকক্ষের নির্বাচন হওয়া উচিত।
অধ্যাপক নিজামের মতে, উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি নিয়ে যে আপত্তি তোলা হচ্ছে, সেখানে শক্ত কোনো যুক্তি দেখা যাচ্ছে না। উচ্চকক্ষে কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা দলগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।
No Comment Yet