জেএফসিএল এর উপ-মহাব্যবস্থাপককে আইনী নোটিশ
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ সময়: ১১:৩২:০০
জামালপুরের সরিষাবাড়ীস্থ্য তারাকান্দিতে অবস্থিত তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা কোঃ লিঃ এর "দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারি" নিয়োগে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনী নোটিশ প্রেরণ করেছে শ্রমিক নিয়োগের কার্যাদেশ পাওয়া "মেসার্স আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিঃ" এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মমিনুল ইসলাম। ১১-০১-২০২৬ ইং তারিখে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট এর ব্যারিস্টার মোঃ গোলাম নবী সাক্ষরিত আইনী নোটিশটি শিল্প মন্ত্রণালয় এর সচিব, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিস কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেড এবং উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) বরাবর এ নোটিশ প্রেরণ করা হয়।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, "মেসার্স আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিঃ" কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর অধীনে ০৫/০৮/২০১৮ তারিখে সার্টিফিকেট নং সি ১৪৬৩৯৬/২০১৮ এর অধীনে নিয়মিত হয়েছিল এবং সমস্ত নিয়ম কানুন এবং অনুমোদিত স্মারকলিপি এবং ধারা অনুসরণ করে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। নিয়মিত ভ্যাট এবং কর প্রদান করছেন। ২০১৭ সাল থেকে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই বিভিন্ন পদে জনবল সরবরাহের বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিভিন্ন পদে এক হাজার জন কর্মী নিয়োগ করেছেন যারা তাদের নিয়োগকর্তাদের সন্তুষ্টির সাথে নিখুঁতভাবে কাজ করছেন।
গত ২৪-১১-২০২৪ ইং তারিখে যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেড এর বিভিন্ন বিভাগ শাখায় কাজের জন্য সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতের (কারখানা চলাকালীন ২৩৯জন এবং কারখানা বন্ধ কালীন ১৬৫জন) কর্মী নিয়োগ দরপত্রের আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করে কারখানার সকল নিয়মকানুন অনুসরণ করে কার্যাদেশ পায়।
কার্যাদেশ পেয়ে চুক্তিপত্র অনুসারে নির্ধারিত পদে নিয়োগের জন্য নোটিশ প্রাপক ব্যাবস্থাপনা পরিচালক, তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা কোঃ লিঃ এর কাছে কর্মীদের একটি তালিকা প্রেরণ করেন।
কিন্তু তারা ঠিকাদারের তালিকা বিবেচনা না করে ২৭-১০-২০২৫ তারিখে জেএফসিএল/প্রশাসনএস্টেট০৯/৩৩৬৩ (ক) চিঠির সাথে কর্মীদের একটি তালিকা প্রেরণের নির্দেশ দেন, যাহা আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ।
কার্যাদেশ ও চুক্তিপত্র অনুযায়ী চুক্তির মেয়াদ ০১.০৯.২০২৫ তারিখ থেকে ৩১.০৮.২০২৭ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। কিন্তু নোটিশ প্রাপক ৪ এর পক্ষে ৩নং স্বাক্ষরকারী ঠিকাদারকে শ্রমিক তালিকা গ্রহণের কোনো সুযোগ না দিয়ে জেএফসিএল/প্রশাসন/এস্টেট-০৯/৫৭ নং একটি বিতর্কিত পত্র, তারিখ:- ০৫.০১.২০২৬ জারি করেন।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
এতে আপনারা ইচ্ছাকৃত ও স্বেচ্ছাচারীভাবে কার্যাদেশ ও চুক্তিপত্রের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ আরোপ করে ঠিকাদারের ওপর চুক্তি ভঙ্গের দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালিয়েছেন, যা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রসূত। উক্ত আপত্তিকর চিঠিটি সেচ্ছাচারী, অবৈধ, আইনগত কর্তৃত্বহীন এবং এর কোন আইনি প্রভাব নেই।
তাই জেএফসিএল/প্রশাসন/এস্টেট-০৯/৫৭ নম্বর পত্র, তারিখ:- ০৫.০১.২০২৬ প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের পর ঠিকাদার কর্তৃক প্রেরিত তালিকা গ্রহণ না করায় ঠিকাদারের অনুকূলে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২,০০,০০,০০০/- (দুই কোটি টাকা) প্রদান করারও দাবী জানানো হয়। উক্ত নোটিশ প্রাপ্তির ০৩ (তিন) দিনের মধ্যে, তা না করলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রীট আবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
যদিও এ নোটিশের বিষয়ে অবগত নয় বলে জানান কারখানার উপ-মহাব্যাবস্থাপক (প্রশাসন) মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তিনি আরো জানান, ঠিকাদারকে "দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিক কর্মচারীর" চুক্তিনামার ২, ৯ ও ২৩ নং শর্ত মোতাবেক সম্পাদিত চুক্তিনামা ও কার্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে জবাব প্রদানের প্রসঙ্গে একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। কেন চুক্তিনামা ও কার্যাদেশ বাতিল করা হবে না এই মর্মে তিন কার্য দিবসের মধ্যে যথাযথ জবাব দাখিলের নির্দেশ করা হয়েছে।
No Comment Yet