দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মান্নাসহ ৫৮ জন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শুনানির দ্বিতীয় দিনে ৫৮টি আপিল মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া সাতটি আপিল নামঞ্জুর বা বাতিল করা হয়েছে এবং অপর ছয়টি আপিলের শুনানি অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। এদিনের শুনানির ফলে ইসিতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বাছাইয়ে বাদপড়া আরও ৫৮ জন প্রার্থী।

যাদের মধ্যে রয়েছেন বগুড়া-২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং জামায়াতের দুই প্রার্থী। আগেরদিনের ধারাবাহিকতায় জাতীয় পার্টির ছয়জনসহ বেশিরভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্রও বৈধ হয়েছে। এই অবস্থায় আগামী নির্বাচনে ৭০টি আসনে ভালো ফলাফল করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে জাতীয় পার্টি।    
এ নিয়ে গত দু’দিনে মোট ১৪০টি আপিল নিষ্পত্তি করা হলো। অবশ্য আগেরদিনের দু’টি এবং রবিবারের সাতটি বিবেচনাধীন আপিলের পুনঃশুনানি আজ সোমবার ও আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া শুনানিতে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ৭০টি করে আপিলের নিষ্পত্তি করার কথা রয়েছে ইসির। 
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুই দফায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে চার নির্বাচন কমিশনার যোগ দেন। এ সময় ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ও আইন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
গত সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন গ্রহণ চলে নির্বাচন ভবন প্রাঙ্গণে। আপিল কেন্দ্রে অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথে পাঁচদিনে মোট ৬৪৫টি আপিল জমা পড়ে। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইকালে মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর পক্ষে তিনটি আসনে দাখিল করা তিনটি মনোনয়নপত্র বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম শেষ করা হয়। 
প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মান্না ও জামায়াতের দুজন ॥ আপিল শুনানিতে বগুড়া-২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়ন পুনর্বহাল করা হয়। মামলা নিষ্পত্তি থাকায় তার আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে বলে জানায় ইসি। এর আগে গত ২ জানুয়ারি হলফনামায় ফৌজদারি মামলার তথ্য না থাকাসহ নানা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে মান্নার মনোনয়ন বাতিল করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা। 
প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে মান্না সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে কোমরের নিচে আঘাত করে কাউকে হারানোর চেষ্টা রাজনীতি নয়। ষড়যন্ত্র করে জেতা যায় না। আর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রের লড়াই থামানো যায় না। মনোনয়ন বাতিলের পেছনে যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত টেকেনি। 
এই আসনে বিএনপির সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনো বিএনপি তাদের মনোনয়ন দেওয়া প্রার্থী প্রত্যাহার করেনি। আশা করবো, যেহেতু আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রত্যাহার করাই। 
এছাড়া শুনানি শেষে জামায়াতের দুই প্রার্থী চাঁদপুর-২ আসনের মোহাম্মদ আবদুল মুবিন এবং জামালপুর-৩ আসনের মজিবুর রহমান আজাদীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।  
ইসির শুনানি শেষে জাতীয় পার্টির ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়। তারা হচ্ছেন- কুমিল্লা-১ আসনের সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান, বগুড়া-২ শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, যশোর-৪ জহুরুল হক, যশোর-৫ এর এমএ হালিম, যশোর-৬ জিএম হাসান এবং রাজশাহী-৬ আসনে ইকবাল হোসেন। এ নিয়ে দুইদিনে জাতীয় পার্টির মোট ১৭ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হলো। নানা ত্রুটির কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের মনোনয়ন বাতিল করেন।    
নিজ দলের প্রার্থীদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আপিলের শুনানিতে অংশগ্রহণ শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত নিশ্চিত হলে জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে ৪০ থেকে ৭০টি আসনে ভালো ফল পেতে পারে। এখনই রাজনৈতিক সমঝোতার সময়। নির্বাচন কমিশন, প্রধান উপদেষ্টা অথবা বড় রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে সব দলকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
আরও যাদের আপিল মঞ্জুর ॥  দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে আগেরদিন বিবেচনাধীন থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাজির করলে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। 
এদিন আরও যাঁদের আপিল মঞ্জুর হয় তারা হলেন- কুড়িগ্রাম-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান, গাজীপুর-২ খেলাফত মজলিসের খন্দকার রুহুল আমীন, টাঙ্গাইল-৫ খেলাফত মজলিসের হাসানাত আল আমীন, টাঙ্গাইল-৮ খেলাফত মজলিসের শহীদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৭ খেলাফত মজলিসের আবু তাহের, বগুড়া-২ স্বতন্ত্র রেজাউল করিম তালু, জয়পুরহাট-২ এবি পার্টির এস এ জাহিদ, রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র পহেল চাকমা, জয়পুরহাট-১ এবি পার্টির সুলতান মো. শামছুজ্জামান, ঢাকা-১ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল ইসলাম, কুমিল্লা-৬ বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কামরুন্নাহার সাথী, কুমিল্লা-৮ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আলী আশ্রাফ, নেত্রকোনা-১ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির বেলাল হোসেন, হবিগঞ্জ-৩ বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের শাহিনুর রহমান, নড়াইল-২ গণঅধিকার পরিষদের নূর ইসলাম, হবিগঞ্জ-৪ বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের রাশেদুল ইসলাম খোকন, লক্ষ্মীপুর-২ বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ফরহাদ মিয়া, সাতক্ষীরা-৩ স্বতন্ত্র শহিদুল আলম, লক্ষ্মীপুর-২ গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার, চাঁদপুর-১ গণঅধিকার পরিষদের এনায়েত হোসেন, মাদারীপুর-৩ বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আমিনুল ইসলাম, যশোর-২ স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম, ঢাকা-৮ জনতার দলের প্রার্থী গোলাম সারোয়ার, ঢাকা-১০ জনতার দলের জাকির হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) সেলিম আহমেদ প্রমুখ। 
যাদের আবেদন নামঞ্জুর ॥ ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ, রাজশাহী-৩ স্বতন্ত্র হাবিবা বেগম, শেরপুর-১ স্বতন্ত্র ইলিয়াছ উদ্দিন, ভোলা-২ স্বতন্ত্র তাসলিমা বেগম, রংপুর-৪ স্বতন্ত্র জয়নুল আবেদিন, খুলনা-৪ এস এম আজমল হোসেন এবং ময়মনসিংহ-৯ খেলাফত মজলিসের শামসুল ইসলামের আপিল নামঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন।
অপেক্ষমাণ যারা ॥ ভোলা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিবুল্যাহ খোকন, ফরিদপুর-৪ স্বতন্ত্র আবদুল কাদের মিয়া, রাজশাহী-৫ স্বতন্ত্র রায়হান কাওসার, ময়মনসিংহ-৪ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি), খুলনা-১ স্বতন্ত্র গোবিন্দ হালদার এবং যশোর-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদের আপিল অপেক্ষমাণ (পেন্ডিং) রাখা হয়েছে। এই ছয়জনকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ফের শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সময় দিয়েছে ইসি। 

বিজ্ঞাপন
Dutch-Bangla bank New account opening free visa debit card

Dutch-Bangla bank New account opening free visa debit card

0%
0%
No Comment Yet