মার্চের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নামানোর নির্দেশ গভর্নরের

ব্যাংক খাতে লাগামছাড়া খেলাপি ঋণের চাপ কমাতে সময় বেঁধে দিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। আগামী মার্চের মধ্যেই সার্বিক খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছেন তিনি। এ লক্ষ্য অর্জনে নতুন ঋণ বিতরণের চেয়ে আদায়, পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন ও অবলোপন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় গভর্নর এসব নির্দেশনা দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এ সময় মোট বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। ফলে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যা কার্যত প্রায় ৩৬ শতাংশের কাছাকাছি।

খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়েছে। সভায় গভর্নর ব্যবসায়িক লোকসান ও নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে নীতিমালার আওতায় যতটা সম্ভব উদারভাবে পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়ার জন্য ব্যাংকারদের তাগাদা দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জনকণ্ঠকে বলেন, “ব্যাংকার্স সভায় গভর্নর ঋণ আদায়ের ওপর জোর দিয়েছেন। খেলাপি ঋণের হার কমাতে এর কোনো বিকল্প নেই। নিয়ম মেনে যে বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা বারবার দেওয়া হবে না—এ বিষয়টিও তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বিশেষ সুবিধায় পুনঃতফসিলের সুযোগ থাকলেও সব ব্যাংক তা যথাযথভাবে কাজে লাগাচ্ছে না। এ প্রেক্ষাপটে গভর্নর নীতিমালার আলোকে সর্বোচ্চ মাত্রায় পুনঃতফসিল কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, পুনঃতফসিল সুবিধার প্রভাবে গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার কমে প্রায় ৩০ দশমিক ৫৬ শতাংশে নেমে আসে। এর মধ্যে মার্জ হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাদ দিলে প্রকৃত খেলাপির হার প্রায় ২৫ শতাংশে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞাপন
DBBL Deposit Plus Scheme (DPS) ; Interest Rate 2025

DBBL Deposit Plus Scheme (DPS) ; Interest Rate 2025

সভায় গভর্নর স্মরণ করিয়ে দেন, আগামী মার্চ পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগ খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এ বাস্তবতায় নতুন ঋণ বিতরণের চেয়ে বিদ্যমান খেলাপি ঋণ আদায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে বিদেশে থাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানাধীন এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর একটি বড় অংশ লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে বলে সভায় উঠে আসে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা ও পরিচালন ব্যয় বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অর্থে বহন করা হচ্ছে—যা টেকসই নয় বলে মন্তব্য করেন গভর্নর।

এ বিষয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, “এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো আয় করার সক্ষমতা রাখে। লোকসান বন্ধ করে এগুলোকে লাভজনক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি পর্যালোচনায় একটি বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

একইসঙ্গে বিদেশি মুদ্রার ব্যবহার সংক্রান্ত ১৯৭৪ সালের ‘ফরেইন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট (ফেরা)’ পর্যালোচনার নির্দেশ দেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগের বিধান আরও উদার করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

0%
0%
No Comment Yet