রাতে ঘুম আসে না? যেসব খাবার বদলে দিতে পারে আপনার ঘুম

পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম সুস্থ শরীর ও মানসিক প্রশান্তির জন্য অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি হলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, মানসিক অবসাদসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে বাস্তবে অনেক মানুষই অনিদ্রা বা অশান্ত ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ঘুম কেবল বিশ্রামের বিষয় নয়; এটি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘুমানোর আগে কী খাওয়া হচ্ছে বা কোন পানীয় গ্রহণ করা হচ্ছে, তা ঘুমের গভীরতা ও মানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ এবং কিছু অভ্যাসগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘুমজনিত সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

গবেষণা ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট খাবার ও পানীয় ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

কাঠবাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন বি। পাশাপাশি এতে প্রাকৃতিকভাবে থাকা মেলাটোনিন শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করে।

প্রোটিনসমৃদ্ধ টার্কি মাংসে ট্রিপটোফ্যান নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা মেলাটোনিন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। ফলে ঘুমের অনুভূতি বাড়তে পারে।

ক্যামোমাইল চা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিদায়ক পানীয় হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা অ্যাপিজেনিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট রিসেপ্টরের সঙ্গে কাজ করে ঘুমের অনুভূতি জোরদার করে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

কম ক্যালরিযুক্ত কিউই ফলে রয়েছে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এতে থাকা সেরোটোনিন ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।

বিজ্ঞাপন
Dutch Bangla bank Agent Banking

Dutch Bangla bank Agent Banking

টক চেরির জুসে প্রাকৃতিকভাবে মেলাটোনিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অনিদ্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

স্যালমন, টুনা ও ম্যাকারেলের মতো চর্বিযুক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন ডি। এসব উপাদান প্রদাহ কমানোর পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং ঘুমের মান বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রাকৃতিক মেলাটোনিন ঘুমের গুণগত মান উন্নত করতে সহায়ক বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া প্যাশন ফ্লাওয়ার চা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমিয়ে স্নায়ুকে শান্ত করে, যা ঘুম সহজ করে। অন্যদিকে, সাদা ভাতের মতো উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার ঘুমানোর আগে গ্রহণ করলে দ্রুত ঘুম আসতে পারে বলে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঘুম ভালো রাখতে নির্দিষ্ট সময় মেনে খাবার গ্রহণ, রাত জাগা পরিহার এবং ঘুমের আগে ক্যাফেইনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তনই ঘুমের সমস্যায় বড় সমাধান এনে দিতে পারে।

0%
0%
No Comment Yet