বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটকের পর জামায়াত আমির যা বললেন
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সময়: ২৩:৫৫:৩৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে নারীদের বিষয়ে বিতর্কিত একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা আটক হওয়ার পর এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম রাষ্ট্রপতি দপ্তরের একজন কর্মকর্তা।
বুধবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, তার ভেরিফায়েড এক্স আইডিটি যেখান থেকে হ্যাক করা হয়েছিল, সেই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং সেটি এখন অত্যন্ত জরুরি।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, সাইবার অপরাধ দমন এবং আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে এ ধরনের আইনি পদক্ষেপের বিকল্প নেই। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে অনেকেই সতর্ক হবে বলে তিনি মনে করেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেলে ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের ভূমিকা ও আধুনিকতা নিয়ে একটি মন্তব্য ভাইরাল হয়, যার ভাষা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। তবে পরদিন রাতের দিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই পোস্টটি তাদের আমিরের নয় এবং তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় এবং একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়।
পরে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে জানান, তার অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিতর্কিত লেখাগুলো ভুয়া এবং তিনি নিজে সেগুলো পোস্ট করেননি। অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে পোস্ট হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর থানায় জিডি করার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এ নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়।
বিজ্ঞাপন
Dutch Bangla bank Agent Banking
এই বিতর্কের পর গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানায় জামায়াতে ইসলামী। গত মঙ্গলবার বিকেলে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গিয়ে এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ জমা দেয়।
জামায়াতের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে তাদের কেন্দ্রীয় অফিসিয়াল ই-মেইলসহ একাধিক ঠিকানায় একটি ফিশিং মেইল পাঠানো হয়েছিল। ওই মেইলের মাধ্যমেই ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, ফিশিং মেইলটি বঙ্গভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আগে প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় তারা সরাসরি বঙ্গভবনে গিয়ে অভিযোগ জানায়।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি রাষ্ট্রপতি দপ্তরে এসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত আছেন এবং পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
No Comment Yet