নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আগে নিরাপত্তা চুক্তি চাই: লেবাননের প্রেসিডেন্ট
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ সময়: ১৭:৪৯:৫৮
ঢাকা, ৫ মে, ২০২৬ (বাসস): ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আগে নিরাপত্তা চুক্তি ও ইসরাইলি হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। যুক্তরাষ্ট্র এ বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছে।
আউনের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের উপযুক্ত সময় হয়নি বলে তিনি তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বৈরুত থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
বিবৃতিতে আউনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘প্রথমে আমাদের একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে এবং আমাদের ওপর ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে। এরপরই বৈঠকের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।’
গত মাসে ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা দুই দফা বৈঠক করেন। কয়েক দশকের মধ্যে এটাই ছিল প্রথম এমন আলোচনা।
ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ২ মার্চ লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার পরই এই উদ্যোগ শুরু হয়। এরপর ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়।
প্রথম দফা বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৭ এপ্রিল থেকে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। দ্বিতীয় দফা বৈঠকের পর তা আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়।
-দুই দেশ সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।-
আউনের কার্যালয় জানায়, প্রস্তুতিমূলক আলোচনার তৃতীয় দফা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এপ্রিলের শেষ দিকে দ্বিতীয় বৈঠকের পর, ট্রাম্প আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আউন ও নেতানিয়াহুকে নিয়ে হোয়াইট হাউসে যৌথ বৈঠকের আশা করছেন।
গত সপ্তাহে বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসও এমন বৈঠকের আহ্বান জানায়।
তারা বলেছে, লেবানন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। দেশের জনগণের সামনে নিজেদের দেশ পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে।’
তারা আরও বলে, দ্বিধার সময় শেষ হয়েছে।
-‘কোনো ক্ষতি নেই’-
বিজ্ঞাপন
Shwapno Super Shop
পরিকল্পিত আলোচনাকে কেন্দ্র করে লেবাননে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করেছে। তাদের নিরস্ত্রীকরণের আগের প্রতিশ্রুতিও বৈরুত প্রত্যাখ্যান করেছে।
হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম সোমবার সরাসরি আলোচনার সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, এতে লেবানন ‘অভিভাবকত্বের অধীনে’ চলে যাবে। তিনি যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান।
কাসেম বলেন, ‘সরাসরি আলোচনা অযৌক্তিক ছাড়, যার কোনো ফল নেই।’
আউন বলেন, ‘আলোচনার পথ থেকে ফেরার সুযোগ নেই, কারণ আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা।
সোমবার লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মতে, প্রেসিডেন্ট (আউন) যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তাতে কোনো ক্ষতি নেই।’
তিনি বলেন, আউন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কাছে নিজের সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেন। দেশে ফিরে এসে এরপর আলোচনা শুরু করা যাবে।
ইসা বলেন, আউন লেবাননের সব দাবি তুলে ধরবেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব।
তিনি উল্লেখ করেন, ভূখণ্ডগত পূর্ণ সার্বভৌমত্ব হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান দাবি।
ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত লেবাননে অন্তত ২ হাজার ৭০০ জন নিহত হয়েছে।
No Comment Yet