পদ্মা ব্যারেজের সম্ভ্যবতা জরিপের কাজ ‘প্রায়’ শেষ: পানিসম্পদ মন্ত্রী
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ সময়: ১৭:৩৩:০৫
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভ্যবতা জরিপের কাজ ‘প্রায়’ শেষ হয়ে এসেছে জানিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এ প্রজেক্টটা শিগগিরিই একনেক সভায় উপস্থাপন হবে, আলোচনা হবে এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
এদিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সভা হয়। সেখানে খাল-খনন, শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান।
তিনি বলেন, সভায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সমস্যা সমাধানের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা যাতে জমিতে সেচের সুবিধা পায়, সারাদেশে চলমান খাল খনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পরে অপেক্ষামান সাংবাদিকদের সামনে বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, বাংলাদেশের সচেয়ে বড় প্রজেক্ট পদ্মা ব্যারেজ, সেটার স্টাডি রিপোর্ট, কারিগরি দিক, সমীক্ষা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। একনেক সভা যেদিন হবে সেদিন প্রকল্পটি উপস্থাপন হবে। তার আগ পর্যন্ত আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কী কী কাজ সম্পন্ন করা দরকার, সেটা নিয়ে আমরা বিশেষ আলোচনা করেছি। কারণ এই পদ্মা ব্যারেজটি বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ জনগণের সুবিধার্থে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় আমরা আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে রাজশাহীতে এই প্রজেক্টটি নিয়ে কথা বলেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রজেক্টে আমাদের নর্থ বেঙ্গলের প্রায় ২৪টি জেলার জনসাধারণ খুব বেশি উপকৃত হবেন এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল এটা বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন। শুধু ইরিগেশন নয়, সারা বাংলাদেশের পানির প্রবাহ, ভূগর্ভস্থ পানির লেভেল, মৎস্য চাষ এবং কৃষিপ্রধান এলাকা হিসাবে সবদিকে সবাইকে আমরা কীভাবে সমন্বয় করতে পারি, সেই দিকে আমরা বিশেষ নজর দিয়েছি।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসঙ্কট দূর করতে নেওয়া একটি প্রস্তাবিত মেগা প্রকল্প।
বিজ্ঞাপন
Dutch-Bangla bank New account opening free visa debit card
ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে যে পানির অভাব দেখা দেয় এবং এর ফলে যে মরুকরণ ও লবণাক্ততার সৃষ্টি হয়, তা রোধ করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংসা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা থেকে খাল বা ক্যানেলের মাধ্যমে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করা যাবে। একই সঙ্গে নদীর নাব্যতা রক্ষা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নেও এই প্রকল্প ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রস্তাবিত ডিপিপি অনুযায়ী ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪,৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তবে প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়ন পর্যায়ে এগোয়নি। এর ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব, আন্তঃদেশীয় নদী ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।
এদিন পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ছাড়াও তিস্তা প্রজেক্ট নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, যেহেতু এটার ফিজিবিলিটি স্টাডি ইতোমধ্যে চলছে, আরো বেশি স্টাডি করতে হবে। কারিগরি দিক, সমীক্ষা সবকিছু বিবেচনা করে আমরা কি বেনিফিট দিয়ে ওই এলাকার মানুষ, দেশবাসীকে আমরা সম্পৃক্ত করব, সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে চাঁদপুর ও ফেনীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ১৬ মে চাঁদপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সারা বাংলাদেশে যেসব জেলায় তিনি যাচ্ছেন, খাল খনন কর্মসূচিকে প্রায়োরিটি দিচ্ছেন। ফেনীতে যাবেন ২৫ মে।
পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সে অনুযায়ী তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ইতোমধ্যে কয়েকটা জেলায় গিয়ে খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। আমাদের মন্ত্রী এমপি সাহেবরা সবাই যার যার এলাকায় এই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। যেহেতু বর্ষাকাল প্রায় চলে এসেছে। হয়ত আমরা এই মে মাস পর্যন্ত এ কর্মসূচি কন্টিনিউ করতে পারব। বর্ষা শেষে আবার আগামী নভেম্বর ডিসেম্বর জানুয়ারির দিকে আমরা এই খালখনন কর্মসূচি আমরা কন্টিনিউ করব।
No Comment Yet