আইইবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রকল্প দুর্নীতি রোধে টাস্কফোর্সের দাবি
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬ সময়: ১৭:২৯:১৯
দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে নতুন করে সরব হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)।
সংগঠনটির নেতারা বলছেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উচ্চপর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রকৌশলীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট চাকরিবিধি প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। আইইবির ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) উপলক্ষে বুধবার, (৬ মে), ২০২৬ সকালে রাজধানীর রমনায় সংগঠনটির সদর দফতরের কাউন্সিল হলে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)। সঞ্চালনা করেন সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এ.টি.এম. তানবীর-উল-হাসান (তমাল) বলেন, দেশের উন্নয়ন, পেশাজীবী সমাজের কার্যক্রম এবং জাতীয় অগ্রগতির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি বলেন, “আইইবির কার্যক্রম, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা আমরা আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের এই সময়ে প্রকৌশলীদের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই কাজের সঠিক চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার দায়িত্বও গণমাধ্যমের।
সভায় আইইবির কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান। তিনি দেশের প্রকৌশল খাতের কাঠামোগত সমস্যাগুলো তুলে ধরে বলেন, সরকারি খাতে নিয়োগ সীমিত থাকায় দেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি প্রকৌশলী বেসরকারি খাতে কর্মরত। কিন্তু এসব প্রকৌশলীর বড় একটি অংশ তুলনামূলকভাবে কম বেতন, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির মধ্যে কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিনা নোটিশে চাকরি হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারের অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে বেসরকারি প্রকৌশলীরাই কাজ করেন। অথচ তাদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট চাকরিবিধি নেই। এটি একটি বড় বৈষম্য।” এই বাস্তবতায় বেসরকারি প্রকৌশলীদের জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের চাকরিবিধি প্রণয়নের ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু প্রকৌশলীদের সুরক্ষার জন্য নয়, বরং সামগ্রিকভাবে উৎপাদনশীলতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মানোন্নয়নের জন্যও জরুরি।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
No Comment Yet