হরমুজ সংকটে ক্ষুধার ঝুঁকিতে কোটি কোটি মানুষ: জাতিসংঘ কর্মকর্তা
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ সময়: ০৯:৩৮:৪৪
ঢাকা, ১১ মে, ২০২৬ (বাসস): পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে সার পরিবহন বন্ধ থাকলে কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধা ও অনাহারের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের একটি টাস্কফোর্সের প্রধান।
সম্ভাব্য মানবিক সংকট ঠেকাতে কার্যরত এই কর্মকর্তা সোমবার এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান কয়েক মাস ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ সার পরিবাহিত হয়, যা বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘের প্রকল্প পরিষেবা দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক ও টাস্কফোর্স প্রধান জর্জ মোরেইরা দা সিলভা বলেন, ‘আমাদের সামনে কয়েক সপ্তাহ সময় আছে, না হলে একটি বিশাল মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি যেখানে আরও ৪৫ মিলিয়ন (৪ কোটি ৫০ লাখ) মানুষ ক্ষুধা ও অনাহারের ঝুঁকিতে পড়বে।’
জাতিসংঘ মহাসচিব মার্চ মাসে এই টাস্কফোর্স গঠন করেন, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে সার ও সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল যেমন অ্যামোনিয়া, সালফার ও ইউরিয়া পরিবহনের একটি ব্যবস্থা চালু করা।
মোরেইরা দা সিলভা জানান, তিনি গত কয়েক সপ্তাহে সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলোকে অন্তত কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন এবং ইতোমধ্যে ১০০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তিনি বলেন, ক্রমেই বেশি দেশ এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানাচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং সার উৎপাদনকারী গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো পুরোপুরি এতে সম্মত হয়নি।
তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য হলো ‘স্থায়ী শান্তি’ চুক্তি এবং প্রণালীতে সব পণ্যের জন্য অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা। তবে সমস্যা হলো, ‘কৃষি মৌসুম তো অপেক্ষায় থাকবে না, কিছু আফ্রিকান দেশে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মৌসুম শেষ হয়ে যাবে।’
বিজ্ঞাপন
Shwapno Super Shop
বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত প্রধান মনোযোগ ছিল তেল ও গ্যাস বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রভাবের দিকে। তবে জাতিসংঘ খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছে, কারণ আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মোরেইরা দা সিলভা বলেন, জাতিসংঘ সাত দিনের মধ্যে এই ব্যবস্থা চালু করতে পারে। তবে প্রণালি এখনই খুলে গেলেও স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে।
তিনি বলেন, ‘এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। যদি আমরা সংকটের মূল কারণ দ্রুত না থামাই, তাহলে আমাদের পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে মানবিক সহায়তার মাধ্যমে।’
তিনি আরও বলেন, এখনো খাদ্যদ্রব্যের দাম ব্যাপকভাবে না বাড়লেও সারের দাম ইতোমধ্যে ‘বিপুলভাবে বেড়েছে’, যা কৃষি উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে এবং খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে মাত্র পাঁচটি সারবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করলেও সংকট ঠেকানো সম্ভব।
তার মতে, সবচেয়ে বড় অভাব হলো ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’।
No Comment Yet