অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন স্কিমবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ১২ মে, ২০২৬ (বাসস) : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন স্কিমবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। 

সচিবালয়ে আজ অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও অর্থ বিভাগ ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় ড. মো. সুরাতুজ্জামান সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। 

বৈঠকে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা-এই চারটি পেনশন প্রকল্পের অধীনে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন এবং পেনশন তহবিলে মোট জমার পরিমাণ প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মুনাফাসহ মোট বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। 

বৈঠকে জানানো হয়, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমশক্তি অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এবং দেশের প্রবীণ নির্ভরশীলতার হার ২০২৩ সালের ৯.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৫০ সালের মধ্যে ২৪ শতাংশ এবং ২০৭৫ সালের মধ্যে ৪৮ শতাংশে উন্নীত হবে।

এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অংশগ্রহণকারীরা সর্বজনীন পেনশন প্রকল্পকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী পেনশন প্রকল্প সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দেন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রত্যেকটি থেকে অন্তত একজন সদস্যকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

এই কর্মসূচিকে আরও আকর্ষণীয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে তিনি একটি শরিয়াহ-ভিত্তিক পেনশন প্রকল্প চালু, মনোনীতদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি প্রকল্পের আওতায় আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রকল্পের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বর্তমানে এর সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলছে।

কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিকাশ, নগদ এবং টেলিটকের মাধ্যমে এই প্রকল্পের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করা হচ্ছে। দেশজুড়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমেও নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বার্ধক্যে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বেসরকারি খাতের কর্মচারীদের জন্য একটি পেনশন তহবিল গঠন করা সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি। এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য তিনি পেনশন প্রকল্পের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচারমূলক কার্যক্রম জোরদার করা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দক্ষ ও পেশাদার জনশক্তি নিয়োগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

0%
0%
No Comment Yet