ইরান যুদ্ধের মাঝে গোপনে আমিরাত সফর নেতানিয়াহুর

ইরান যুদ্ধের তুঙ্গে থাকার সময় গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার রাতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই সফর ইসরাইল ও ইউএই-এর মধ্যে সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক সাফল্য এনেছে।’ তবে ইউএই-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সফরের বিষয়টি অস্বীকার করে এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, গত ২৬ মার্চ ওমান সীমান্তের কাছে মরুদ্যান শহর আল আইনে শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। এর পাশাপাশি মোসাদ পরিচালক ডেভিড বার্নিয়া ইরানের বিপক্ষে সামরিক পদক্ষেপ সমন্বয় করতে অন্তত দুইবার ইউএই সফর করেছেন।

মঙ্গলবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি জানান, ইসরাইল ইউএইকে আয়রন ডোম ব্যাটারি ও সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইউএই ও ইসরাইলের মধ্যে অসাধারণ একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।’

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইউএই নিজেও গোপনে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে লাভান দ্বীপের একটি তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালানো হয়, যা ছিল ইরানের তেল স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ।

২০২০ সালে ইউএই প্রথম ইসলামি দেশ হিসেবে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। পরে বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানও একই পথে হাঁটে, যা ‘আব্রাহাম চুক্তি’ নামে পরিচিত। তবে অন্য সদস্যদের তুলনায় ইউএই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ককে অনেক বেশি গভীর করেছে। মাসের শুরুতে ইউএই সৌদি নেতৃত্বাধীন তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক থেকেও বেরিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

Shwapno Super Shop

তবে দুটি দেশই নানা বিতর্কে জড়িয়ে আছে। গাজায় গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। অন্যদিকে ইউএই সুদানে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহের অভিযোগে বিতর্কে আছে, যদিও তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সূত্র-দ্য গার্ডিয়ান

0%
0%
No Comment Yet