বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতায় মিশ্র অর্থায়ন অপরিহার্য একটি ভিত্তি
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ সময়: ২৩:৪৫:৩৪
ঢাকা, ১৪ মে, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স সামিট ২০২৬’, -এ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের জন্য মিশ্র ও টেকসই অর্থায়ন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকায় সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রতিষ্ঠান ট্রুভ্যালু বাংলাদেশ এবং সরকার পরিচালিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থা স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড-এর সহযোগিতায় আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে লাইটক্যাসেল পার্টনার্স নামক একটি প্রতিষ্ঠান এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী-বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে টেকসই অর্থায়নের বাজার ৯১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে এবং ২০২৬ সালে তা ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বাংলাদেশের বাজারেও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে-২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে দেশে টেকসই অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩.৭৫ বিলিয়ন টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫.৮৭ শতাংশ।
সামিটের উদ্বোধন করেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংলি।
গেস্ট অব অনার হিসেবে সরকারের উদ্ভাবনভিত্তিক কর্মসূচি অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটু আই)-এর প্রধান প্রযুক্তি উপদেষ্টা মাসুদ রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে যখন উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং টেকসই অর্থায়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াই দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। বিশেষত, শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো উদ্যোক্তাদের জন্য দরজা খুলে দেবে নতুন বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির।
সামিটে মোট তিনটি পৃথক প্যানেলে আলোচনার আয়োজন করা হয়।
প্রথম প্যানেল সঞ্চালনা করেন জাহেদুল আমিন। এতে বক্তব্য দেন সুইস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন দিপক এলমার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরুল হক, ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্সের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কেরি ব্রিন, সাউথ এশিয়া টেক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজাত চৌধুরী এবং ইনফিউশন পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাবিলা নওরিন।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
সামিটে ‘প্রতিশ্রুতি থেকে প্রকল্পে : টেকসই অর্থায়নে পরবর্তী ট্রিলিয়ন অবমুক্তকরণ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজন ইসলাম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের টেকসই অর্থায়নের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শক্তিশালী বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরির ওপর, যা বেসরকারি পুঁজিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে। এজন্য প্রয়োজন কাঠামোগত উন্নয়ন, পরিষ্কার নীতিমালা, এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের সম্প্রসারণ।
সামিটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দুটি নতুন বিনিয়োগ তহবিলের ঘোষণা-‘ওআর-ই২ ফান্ড’ এবং ‘বাংলাদেশ ইমপ্যাক্ট ফান্ড’।
এ দুটি তহবিলের লক্ষ্য দেশের উচ্চ-সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র ও ক্রমবর্ধমান ব্যবসাগুলোর জন্য সহজলভ্য মূলধন নিশ্চিত করা, যা উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।
রাষ্ট্রদূত রেতো রেংলি তার বক্তব্যে বলেন, টেকসই অর্থায়ন এখন আর কোনো ছোট এজেন্ডা নয়-বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ভিত্তি গঠনের একটি অপরিহার্য অংশ। বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই সামিট বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
No Comment Yet