‘চিকেনস নেক’র পাহারায় বড় উদ্যোগ, শিলিগুড়িতে নতুন ঘাঁটি গড়ছে সীমান্ত বাহিনী
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ সময়: ১৩:১৭:০০
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, তার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের জন্য নতুন ঘাঁটি নির্মাণে বিপুল পরিমাণ জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, নতুন সীমান্ত চৌকি এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ রক্ষাকারী এ সরু করিডর দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বিবেচিত। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এখন এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।
রাজ্য সরকারের সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ১২০ একর জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া এবং সীমান্ত চৌকি নির্মাণের জন্য আরও ৮৮ একর জমি কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এবার শিলিগুড়িতে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর তৈরির জন্য ছয় একর জমি চেয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। পাশাপাশি ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বেসক্যাম্প নির্মাণের জন্য ১০০ একর জমির আবেদন করেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, দুটি প্রস্তাবই অনুমোদনের পথে রয়েছে। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত পুরোপুরি সুরক্ষিত করতে একাধিক নির্দেশ দিয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। ইতোমধ্যে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
Shwapno Super Shop
শুধু সীমান্ত পাহারা নয়, সেনা চলাচল ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ সহজ করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সড়ক জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে সীমান্ত ঘাঁটিতে দ্রুত রসদ পৌঁছে দেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা ভারতের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় এ অবকাঠামো ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
No Comment Yet