ট্রাম্প ও মামদানির বৈঠক কী ঘটেছিল, পরে কী বললেন নিউইয়র্কের নতুন মেয়র

সেদিন তারা দুজন আবাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন, স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত জটিল বিধানগুলো নিয়ে বিতর্ক করেছেন এবং কীভাবে একটি বিদ্যুৎ কোম্পানি বিদ্যুতের খরচ কমাতে রাজি হবে, তার পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। তারপর তারা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরটিতে আবাসন নির্মাণের প্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে কথা বলেছেন।

এগুলোই ছিল নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে নবনির্বাচিত জোহরান মামদানি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার সাম্প্রতিক আলোচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। গত শুক্রবার তারা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে গত শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছান মামদানি। তিনি হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইং হয়ে বৈঠকস্থল ওভাল অফিসের দিকে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তিন সহযোগী–জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মরিস কাৎজ, প্রেসসচিব ডোরা পেকেক এবং তার চিফ অব স্টাফ এলে বিসগার্ড–চার্চ। বৈঠকের বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি এসব তথ্য দিয়েছেন।

তবে জোহরান মামদানির সঙ্গে থাকা তিন সহযোগীর মধ্যে শুধু এলে বিসগার্ড-চার্চই ওভাল অফিসের ভেতর ঢুকতে পেরেছেন। ভেতরে ছিলেন ট্রাম্প এবং তার চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস।

গতকাল রোববার সিএনএনকে জোহরান বলেন, ‘আমাদের আলোচনায় মূলত নিউইয়র্ক নগরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এটি আমাদের দুই পক্ষেরই প্রাধান্যের বিষয়।’

বৈঠকের একপর্যায়ে ট্রাম্প জোহরানকে কেবিনেট রুমে নিয়ে যান। এই কক্ষে সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের ছবি রয়েছে। জোহরান এবং ট্রাম্প ছবির সামনে পোজ দেন। ট্রাম্প ছবি তোলার সময় হাসছিলেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুল তুলে তার চিরচেনা ভঙ্গিমা দেখাচ্ছিলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জোহরান মৃদু করে হাসলেন।

বিজ্ঞাপন

Shwapno Super Shop

গত শুক্রবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহারান মামদানির সঙ্গে বৈঠক হওয়াটা অত্যন্ত সম্মানজনক।’ মামদানির সঙ্গে তোলা তার কিছু ছবিও পোস্ট করেন ট্রাম্প। বৈঠকের পর ছবিগুলো তোলা হয়েছিল।

বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা প্রবেশের জন্য ওভাল অফিসের দরজা খুলে দেওয়া হয়। এরপর ট্রাম্প ও মামদানি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ট্রাম্প ডেস্কে বসে বসে কথা বলছিলেন। আর জোহরান মামদানি পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ট্রাম্প তার প্রশংসা করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা অনেক বিষয়ে একমত, যা আমি ভাবতেও পারিনি।’

দুই সম্পূর্ণ বিপরীত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে বৈঠকটি ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে, যা অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ, এর আগে কয়েক মাস ধরে তারা দুজন একে অপরের সমালোচনা করে আসছিলেন।

0%
0%
No Comment Yet