উত্তর চট্টগ্রামের হাটবাজার গুলোতে-পশুর চামড়ার ক্রেতা না থাকায় হেলাফেলা
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: সোমবার, ০১ জুন ২০২৬ সময়: ১১:৫৮:২৩
উত্তত চট্টগ্রামের ফটিকছড়িসহ ৭ টি উপজেলার বিভিন্ন হাটাবাজার গুলোতে ক্রেতা না থাকায় কোরবানির পশুর চামড়া কিনে বিপাকে পড়েন মৌসুমি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার দিনভর হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ড ও মীরসরাই উপজেলা সদর ও গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার গুলোতে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। এখানে চামড়া কেনার ক্রেতা না থাকায় শতশত মৌসুমি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা সড়কের ধারে চামড়া ফেলে রেখে চলে যায়। উপযুক্ত দাম দূরের কথা, চামড়া কেনার জন্য ট্যানারি মালিক কিংবা বড় পাইকার নেই।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দিনভর উল্লিখিত উপজেলা গুলোর সদর বাজার ও নাজিরহাট সহ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। সরেজমিনে ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বিবিরহাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সড়ক ও দোকানের সামনে সারি সারি করে স্তূপ করে রাখা হয়েছে শত শত গরুর চামড়া। দীর্ঘ সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় রোদ ও গরমে চামড়া নষ্ট হতে শুরু করেছে। আশপাশে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে বাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম অস্বস্তি সৃষ্টি হয়।
মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে একেকটি গরুর চামড়া ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে সংগ্রহ করেন। বাড়তি লাভের আশায় চামড়াগুলো বিবিরহাট, নাজিরহাট, হেয়াকো,আজাদী বাজার, হাটহাজারী, রাউজান,রাঙ্গুনিয়া সদর সহ বিভিন্ন হাট- বাজারে নিয়ে এলেও কোনো বড় ক্রেতা বা পাইকারের দেখা মেলেনি। ভুক্তভোগী মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘গ্রামের অলিগলি ঘুরে অনেক কষ্টে চামড়া সংগ্রহ করে বাজারে এনেছি ; কিন্তু ফায়দা হয়নি। গাড়িভাড়া দিয়ে বাজারে এনে দেখি কোনো বড় ব্যবসায়ীর দেখা নেই। এখন যে দাম বলা হচ্ছে, তাতে বড় ধরনের লোকসান হবে। চামড়া নিয়ে কী করব বুঝতে পারছি না।’
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
আরেক ব্যবসায়ী শফিউল আজম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার কেবল টেলিভিশনেই দাম ঠিক করে দেয়, বাস্তবে কেউ তা মানে না। আমরা পূঁজি খাটিয়ে চামড়া কিনে এখন বিপদে পড়েছি।আবুল কালাম নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘চামড়া বেশিক্ষণ এভাবে ফেলে রাখা সম্ভব নয়। দ্রুত লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা বা বিক্রি করা না গেলে সব নষ্ট হয়ে যাবে।’
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার দিনভর উপজেলা সদরে কয়েকশ চামড়া ব্যবসায়ী এখনও বিক্রি না হওয়া চামড়া নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোনো পাইকার না আসায় অনেক ব্যবসায়ী হতাশ হয়ে চামড়া রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান জানা গেছে। এমনকি এ চামড়াগুলোর দুর্গন্ধে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
No Comment Yet