শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা, গৃহবধূর মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা, মাথার চুল কাটা ও বোতল দিয়ে আঘাত করায় স্বামী আপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে শিমু আক্তার বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় স্বামী আপন মিয়া, শ্বশুর ফজলু মিয়া ও শাশুড়ি আন্না বেগমকে আসামি করে এ মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার এসআই রাশেদ ফজল মামলার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।  

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে শিমু আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের মধ্যপাড়ার ফজলু মিয়ার ছেলে আপন মিয়ার বিয়ে হয়। আপন মিয়া ২০২১ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি নেন। তিনি কক্সবাজারের রামুতে কর্মরত আছেন। বর্তমানে রংপুরের সৈয়দপুরে ছয় মাসের ট্রেনিংয়ে আছেন বলে জানা গেছে।

বিয়ের তিন মাস পর থেকেই শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। স্বামী আপন মিয়া মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য শিমুর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন। তার চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় স্ত্রী শিমুর ওপর নানাভাবে নির্যাতন শুরু করেন আপন।

ঈদের ছুটিতে ২১ মে আপন বাড়ি আসেন। গত শনিবার (২৩ মে) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শিমুকে শারীরিক নির্যাতন চালান এবং মাথার চুল কেটে দেন।

গত শুক্রবার (২৯ মে) স্ত্রী শিমুকে নিয়ে ঘুরতে যান এবং উপজেলার ধেরুয়া চেকপোস্ট এলাকার একটি জলকুটির রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে স্ত্রী শিমুর হাতে ও আঙ্গুলে বোতল দিয়ে আঘাত করে আহত করে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেন স্বামী। পরে সেখান থেকে আহত অবস্থায় লতিফপুর গ্রামে নিয়ে যান এবং রাস্তার দাঁড়িয়ে থাকা শ্বশুর-শাশুড়ির সামনে শিমুকে ফেলে রেখে আপন চলে আসেন। রাতে শিমুকে জামুর্কী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ৩০ মে শিমু আক্তার বাদী হয়ে স্বামী আপন, শ্বশুর ফজলু মিয়া ও শাশুড়ি আন্না বেগমকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

নির্যাতিত গৃহবধূ শিমু আক্তার বলেন, আমার স্বামীর অন্য একজনের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয় সম্পর্ক আছে। আমার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার আগে ওই মেয়ে আমার স্বামী আপনের বাড়িতে এসে উঠেছিলেন; যা আমরা বিয়ের পরে জানতে পারি। আপন ওই মেয়েকেও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়ায়; কিন্তু আপন ও তার পরিবার এ তথ্য গোপন করে তাকে বিয়ে না করে আপন আমাকে বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর থেকে আমাকে অনেক মারপিট করা হয়েছে। আমার দরিদ্র পিতামাতার কথা চিন্তা করে আমি তার সংসার করতে চেয়েছি; কিন্তু এখন আর পারছি না। আমি চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমার স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের সুষ্ঠু বিচার হোক; কিন্তু পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

লতিফপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মিজানুর রহমান বলেন, আপন তার স্ত্রী শিমুর মাথার চুল কেটে দিয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। স্ত্রী অপরাধ করতে পারে, তাই বলে এমন অমানবিক নির্যাতন কাম্য নয়। আমরা এর সঠিক বিচার দাবি করছি।

আপন মিয়া বলেন, স্ত্রী শিমুর সঙ্গে দেওহাটা এলাকার সাগর নামে এক ছেলের পরকীয়া সম্পর্ক আছে। ওই সম্পর্কের কারণে আমার চার মাসের সন্তান নষ্ট করেছে শিমু। এছাড়া ধেরুয়া এলাকার আনিশা রেস্টুরেন্টে দেওহাটা এলাকার ইমন, সাজ্জাদ ও স্বাধীনের সঙ্গে শিমুর হাতাহাতি হয় বলে শিমু তাকে জানিয়েছে।

মাথার চুল কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, শিমুর টাইফয়েড জ্বর হয়েছিল। ডাক্তারের পরামর্শে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। সুস্থ অবস্থায় তার বাবা-মায়ের কাছে শিমুকে দিয়ে আসেন বলে জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার এসআই রাশেদ ফজল জানান, এ ঘটনায় গৃহবধূ শিমু আক্তার তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান।

0%
0%
No Comment Yet