মদনে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সময়: ০১:৪০:১১
নেত্রকোনার হাওর বেষ্টিত উপজেলা মদন। পৌষের শুরু থেকেই এই উপজেলায় শুরু হয়েছে কৃষি জমিতে বোরো ফসল রোপন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না উপজেলায়। কনকনের শীতের তীব্রতার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত।
সরজমিনে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রান্তিক, দিনমজুর ও কৃষক শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বললে শীতের তীব্রতা ও কষ্টের কাহিনি উঠে আসে খেটে খাওয়া মানুষের কাছ থেকে।
মদন উপজেলা শহরের অটোরিকশাচালক খোকন মিয়া বলেন, ‘কুয়াশা আর ঠান্ডার কারণে ভোরে গাড়ি নিয়ে বের হতে পারি না। বের হলেও দিনের বেলায় লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। লোকজন খুব একটা বের হয় না। তাই যাত্রী কম। সারা দিনে আগে যেখানে ৫০০ টাকা পেতাম, সেখানে এখন ৩০০ টাকাও হয় না।’
মদন উপজেলার কদমশ্রী গ্রামের কৃষক মাহিন মিয়া বলেন, বোরো ধান'ই আমাদের হাওরাঞ্চলের একমাত্র ফসল। এই ফসল দিয়ে আমাদের সারা বছর চলে। শীতের শুরু থেকেই আমাদের বোরো ধান চাষাবাদ শুরু হয়েছে। কিন্তু শীতের কারণে আমাদের খুব দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই শীতের জ্বালা সহ্য করেই আমরা বোরো চাষাবাদ করছি।’
এ ছাড়া তীব্র শীতে বেড়েছে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগবালাই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে ছোট শিশুরা সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া এবং বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
মদন হাসপাতালের আরএমও ডা. মোঃ তায়েব হোসেন বলেন, ‘ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ এখন বেশি। এর মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী প্রতিদিনই বাড়ছে।’
উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রি বলেন, ‘এরই মধ্যে উপজেলায় প্রশাসনের মাধ্যমে শীতার্ত মানুষের মধ্যে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৫০ টি করে ও পৌরসভায় ৫০০টি সরকারি কম্বল বিতরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর ) সকাল ৬টার দিকে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
No Comment Yet