রাজধানীতে বাসায় ঢুকে জামায়াত নেতাকে হত্যা

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হয়েছেন জামায়াত নেতা ও হোমিও চিকিৎসক মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ। ভোররাতে বাসার গ্রিল কেটে দুই যুবক ভেতরে ঢুকে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর আট ভরি স্বর্ণ ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা লুট করা হয়। পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে বারান্দার গ্রিল এবং পরে একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে দুজন ব্যক্তি বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের বের হয়ে যেতে দেখা যায়। জানালার গ্রিল কেটেই তারা বাসায় ঢোকে এবং দীর্ঘ সময় ভেতরে অবস্থান করে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যু নিশ্চিত করেই তারা বাসা ত্যাগ করে।

রাজাবাজারের ওই বাসার দোতলায় স্ত্রীসহ বসবাস করতেন আনোয়ারুল্লাহ। পরিবারের সদস্যরা জানান, খুনিরা ভেতরে ঢুকে আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে আনোয়ারুল্লাহকে হত্যা করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানিয়েছেন, মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার শের-ই-বাংলা নগর দক্ষিণ থানার পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সহসভাপতি ও রুকন ছিলেন।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশের এক বাসিন্দা বলেন, এভাবে গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে খুনের ঘটনা ঘটলে যে কারও সাথেই এমন কিছু হতে পারে। আরেক বাসিন্দা জানান, হঠাৎ পুলিশ ও লোকজন জড়ো হতে দেখে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

আনোয়ার উল্লাহ এলাকায় একজন মানবিক ও পরিচিত চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার রাজনৈতিক সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া শাখার কর্মকর্তা তালেবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা রুজু হয়নি, তবে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে চেষ্টা চলছে।

আনোয়ার উল্লাহর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ মেয়ে ও ১ ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

0%
0%
No Comment Yet