দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট সংকট; পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ

ঢাকা, ৭ জুন, ২০২৬ (বাসস) : দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যালট পেপার সংকটে স্থানীয় নির্বাচন ব্যাহত হওয়ায় পুনর্নির্বাচনের দাবিতে রোববার ভোররাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার নাগরিক।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত বুধবারের নির্বাচন ছিল প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম জাতীয় ভোট। তিনি ২০২৪ সালের শেষ দিকে সংক্ষিপ্ত সামরিক শাসন জারির ঘটনায় রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। 

নির্বাচনে মেয়র, স্থানীয় সরকার ও সংসদ সদস্য পদে অধিকাংশ আসনে জয় পেয়েছে লি’র ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। তবে গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী সিউলের মেয়র পদটি দখলে নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে, ব্যালট পেপার সংকট নিয়ে জনরোষের মুখে শুক্রবার পদত্যাগ করেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (এনইসি) চেয়ারম্যান নো তাই-আক। কমিশন জানিয়েছে, রাজধানী সিউলের ৩০টিসহ পুরো দেশের ৫০টি ভোটকেন্দ্রে এই সংকট দেখা দিয়েছিল।

ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা পুলিশের বরাত দিয়ে জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় সিউলে প্রায় ১০ হাজার মানুষ এসকে অলিম্পিক হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে জড়ো হয়। সেখানেই নির্বাচনের ব্যালট গণনা করা হচ্ছিল।

এএফপির সাংবাদিক জানান, রোববার ভোর ২টা পর্যন্ত অন্তত এক হাজার বিক্ষোভকারী সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের বেশিরভাগের বয়সই ২০ থেকে ৩০-এর কোঠায়। তারা জাতীয় পতাকা উড়িয়ে ‘পুনর্নির্বাচন চাই, পুনর্নির্বাচন চাই’ স্লোগান দেন।

বিজ্ঞাপন

Shwapno Super Shop

তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা পানি, কফি ও চকলেট বিতরণ করেন। কেউ কেউ পোষা প্রাণী সঙ্গে এনেছিলেন, আবার অনেকে পিকনিক ম্যাটে বসে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাতভর অবস্থান করেন।

৩১ বছর বয়সী সিও জিন-হি এএফপিকে বলেন, ’রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, ভোট দিতে না পারা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের লঙ্ঘন।’

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে আগাম ভোটদানের কারণে বিপুল সংখ্যক ব্যালট অব্যবহৃত থেকে যাওয়ায় এবার মোট যোগ্য ভোটারের মাত্র ৫০ শতাংশের জন্য ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছিল। 

ফলে কিছু ভোটার ভোট না দিয়েই ফিরে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী পার্ক সউন-ওক বলেন, ‘কমিশনের এই ব্যাখ্যা একজন সাধারণ নাগরিকের কাছেও মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

0%
0%
No Comment Yet