ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে জেলেদের আরও আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার

সংসদ ভবন, ৯ জুন, ২০২৬ (বাসস) : মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকার ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষার মাধ্যমে এর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বছরব্যাপী মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকাকালীন জেলেদের আরও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি আজ সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য এম শাহাদাত হোসেনের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় দরিদ্র জেলেদের আয় বাড়ানোর জন্য কিছু প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা করছে, যাতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় তারা মাছ ধরার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।’

সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সংসদে ‘জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নজরদারি ও কঠোর অভিযান জোরদার’ বিষয়ে নোটিশটি উত্থাপন করেন।

স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জাটকা ধরা বন্ধ করা। দরিদ্র জেলে সম্প্রদায় অনেক সময় দারিদ্রের কারণে নিষেধাজ্ঞার সময় জাটকা ধরতে বাধ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, অনেক জেলের কাছে প্রয়োজনীয় মাছ ধরার সরঞ্জাম না থাকায় 'দাদন' নামে একটি অনানুষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থা চালু আছে। এতে ধনী মহাজন বা মাছ ব্যবসায়ীরা (দাদনদার) জেলেদের অগ্রিম টাকা বা সরঞ্জাম দেন, বিনিময়ে জেলেরা বাধ্য হন তাদের ধরা মাছ নির্ধারিত, সাধারণত কম দামে, শুধু ওই মহাজনের কাছেই বিক্রি করতে।

এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকার প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক প্রকল্প চালু করবে, যাতে জেলেরা বিকল্প আয় করতে পারে এবং নভেম্বর ১ থেকে জুন ৩০ পর্যন্ত ইলিশ নিষেধাজ্ঞার সময় দাদনদারের ওপর নির্ভরতা কমে।
এই সময় ২৫ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশ (জাটকা) ধরা, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

জাটকা সুরক্ষায় মন্ত্রণালয় চাঁদপুর, বরিশালসহ ইলিশ উৎপাদনকারী জেলা এবং পদ্মা ও মেঘনা নদীতে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।

এছাড়া সারা দেশে মাছঘাট, আড়ত ও অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে যাতে জাটকা বিক্রি ও পরিবহন বন্ধ করা যায়।

চাঁদপুর ও বরিশালে জাটকা সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ১৬৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ হাজার ৩৩টি অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল (১.০৭ লাখ মিটার) জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।

অভিযানের সময় ১৯.৫০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ২১৩ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে গ্রেফতার ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ১.৬৭ লাখ জেলে পরিবারের মধ্যে মাথাপিছু ৪০ কেজি করে মোট ৫৮ হাজার ৭২০ টন খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।

0%
0%
No Comment Yet