তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘উদ্যোগ উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের আট জেলা মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনার ৬৪টি উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০৫-এর মাধ্যমে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। নির্ধারিত ফরমে আবেদন করা যাবে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের পর প্রাপ্ত কোনো আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে আগ্রহী ব্যক্তির বয়স আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পাশাপাশি তার নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ, ব্যবসায়িক ধারণা অথবা নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে। একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেও আবেদন করা যাবে।

তবে আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঋণ গ্রহণ করে থাকলে, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে অথবা সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ কর্মসূচির আওতায় অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

নির্বাচিত উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা ও প্রস্তাবিত ব্যয় পরিকল্পনার ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। ব্যাংক ঋণ ও অনুদান একই সময়ে, এককালীন এবং অনুমোদিত পরিমাণে উদ্যোক্তার ব্যাংক হিসাবে প্রদান করা হবে। নগদে কোনো অর্থ প্রদান করা হবে না।

বিজ্ঞাপন
Dutch Bangla bank Agent Banking

Dutch Bangla bank Agent Banking

ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত গ্রহণ ছাড়াই ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অথবা কোনো পর্যায়ে ঋণের অপব্যবহার হয়েছে বলে প্রমাণিত হলে, বিতরণ করা অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ ঋণে রূপান্তরিত হবে। ওই অর্থ সরকারি পাওনা হিসেবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদায়যোগ্য হবে।

শুধু অর্থায়ন নয়, কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের ধারাবাহিক পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা এবং বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার জন্য কোনো পর্যায়ে তদবির করলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী অযোগ্য বিবেচিত হবেন এবং তার আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। এছাড়া অসত্য তথ্য প্রদান বা অন্যের ধারণা নিজের নামে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে আবেদন যেকোনো পর্যায়ে বাতিলের পাশাপাশি আবেদনকারীকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।

কর্মসূচি সংক্রান্ত বিস্তারিত নীতিমালা, উদ্যোক্তার যোগ্যতা, অর্থায়নের কাঠামো, আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট এবং এসএমই পোর্টালে প্রকাশিত সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

0%
0%
No Comment Yet