সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান নিসচার
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ সময়: ১৪:১২:৫৯
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস) : সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি কমাতে ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ, চালকদের দক্ষতা নিশ্চিত, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিত করে সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ রাজধানীতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। নিসচার উদ্যোগে সকাল ১১টায় কাকরাইলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে নিসচার উপদেষ্টা, আজীবন সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এতে সবার জন্য বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সাইকেল লেন এবং নিসচার মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, ধামরাই, পলাশ, নারায়ণগঞ্জ, লৌহজং, শিবপুর, সাভার ও ঠাকুরগাঁও শাখার প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আইন মেনে চলা, চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরা হয়।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য ঘটনা নয়। পরিকল্পিত উদ্যোগ, বিদ্যমান আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন আচরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এজন্য সড়ক নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নিয়মিত ও সমন্বিত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
নিসচার পক্ষ থেকে সড়ক নিরাপত্তা আইন ও বিধির কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালানো, ভুল পথে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং যানবাহনের কাগজপত্র ও ফিটনেসসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিতে হবে।
চালকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষার মান এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার সুপারিশ করেন নেতৃবৃন্দ। চালকদের শারীরিক সক্ষমতা, বিশ্রাম ও কর্মঘণ্টার বিষয়েও নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ক্লান্তি ও অদক্ষতার কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী সব ধরনের গাড়ির নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং ত্রুটিপূর্ণ ও অনুপযোগী যান চলাচল বন্ধে ধারাবাহিক নজরদারির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
No Comment Yet