প্রবারণা পূর্ণিমার শিক্ষা মানবসমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: রুহুল কবির রিজভী

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্য। তার বাণী অনুসরণ ও নিজেদের জীবনে ধারণের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর বাসাবোর ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ আয়োজিত ‘শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা-২০২৬’ উপলক্ষে ‘মানবিক মূল্যবোধের দৃষ্টিতে প্রবারণার গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উৎসব নয়; এর তাৎপর্য অত্যন্ত ব্যাপক। ‘প্রবারণা’ শব্দের বিভিন্ন অর্থের মধ্যে চিত্তের পরিশুদ্ধির বিষয়টি তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।

তিনি বলেন, বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুদের নিজেদের কোনো ভুল, অন্যায় বা বিচ্যুতি হয়ে থাকলে তা স্বীকার করার চর্চার মধ্যে গভীর মানবিক শিক্ষা নিহিত রয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের গণ্ডি অতিক্রম করে একজন মানুষ হিসেবে এ শিক্ষার তাৎপর্য উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, মানুষ নিজের ভুল ও অন্যায় উপলব্ধি করে তা অন্যের কাছে স্বীকার করতে পারলে অপরাধবোধ থেকে মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার সচেতনতাও তৈরি হয়। প্রত্যেক মানুষ নিজের জীবনের ভুলগুলো নিয়ে আত্মসমালোচনা করলে এবং অনুতাপের বিষয়টি অন্যের কাছে প্রকাশ করলে নিজেকে সংশোধনের সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, গৌতম বুদ্ধের জীবন ও কর্মের মধ্যে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সমানভাবে গ্রহণ করার শিক্ষা রয়েছে। সমাজ যাকে ঘৃণার চোখে দেখে, তিনিও নিজের ভুল উপলব্ধি করে নিজেকে সংশোধন করতে পারেন। ছোট-বড় কিংবা শ্রেণিভেদ না করে সবাইকে সমাজের অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে মানবকল্যাণ নিশ্চিত করার শিক্ষা দিয়েছেন মহামানবরা।

বিজ্ঞাপন
DBBL Deposit Plus Scheme (DPS) ; Interest Rate 2025

DBBL Deposit Plus Scheme (DPS) ; Interest Rate 2025

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সব ধর্মের মানুষ গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা চর্চা করলে সমাজে পারস্পরিক আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এর মধ্য দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও পারস্পরিক বন্ধনে আবদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য ঐতিহ্যের দেশ। এ দেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করবেন— এটাই প্রত্যাশা।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবেন। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার।

0%
0%
No Comment Yet