পটুয়াখালীতে আমনের ভালো ফলনের প্রত্যাশা
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬ সময়: ১৬:২৮:৩৫
/ এনামুল হক এনা /
পটুয়াখালী, ২ নভেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং রোগবালাইয়ের কম আক্রমণে চলতি মৌসুমে পটুয়াখালীতে আমন ধানের ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। তবে আগাম তরমুজ চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় এ বছর আমনের আবাদি জমি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮শ’ ৯৬ হেক্টর কমেছে।
সরেজমিনে আজ সোমবার জেলার বিভিন্ন এলাকার আমন ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমিতে আমন ধান পরিপুষ্ট হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে আমন মৌসুম।
বাউফল উপজেলার কৃষক খলিলুর রহমান বাসসকে বলেন, তিনি বিআর-২২ জাতের ৫০ শতক এবং বিআর-৫২ জাতের ৫০ শতক জমিতে ধান চাষ করেছেন। সব মিলিয়ে প্রতি শতকে প্রায় ২শ’ টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে সার, কীটনাশক, হালচাষ ও জমি রোপণের খরচ রয়েছে। তার মোট ১শ’ শতক তথা এক একর জমি থেকে তিনি কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ মণ ধান পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। উৎপাদিত ধান প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের দেলোয়ার সিকদার (৪৫) ও আবদুল বারেক হাওলাদার (৫৫) একই সঙ্গে বলেন, তারা দু’জন দুই একর করে মোট চার একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ করেছেন। খরচ খুব বেশি হয়নি। প্রতি শতকে ২শ’ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হয়েছে। ধান মাঠ থেকে তোলার পর সব মিলিয়ে যে খরচ হবে, তাতে তারা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ সব খরচ বিবেচনায় তাদের চার একর জমিতে মোট ১৫০ থেকে ২শ’ মণ ধান উৎপাদনের প্রত্যাশা রয়েছে। এতে তারা বেষ ভালো লাভের আশা করছেন।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই গ্রামের কৃষক রমজান আলী (৪৫) বাসসকে বলেন, চলতি বছর আমন আবাদের সময় আবহাওয়া ভালো ছিল। সময়মতো জমির পরিচর্যা করতে পেরেছেন। ধানের ক্ষেতে রোগবালাইয়ের আক্রমণও ছিল কম। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ধানের গাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের বটকাজল গ্রামের কৃষক সোবাহান মীরা (৫৫) বলেন, তার এলাকার অধিকাংশ কৃষকের জমিতে ধানের অবস্থা ভালো। তবে ধান কাটার আগে ঝড় বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া চরের কিছু জমিতে আগাম তরমুজ চাষ বাড়ায় এ বছর আমনের আবাদ কমছে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
বাউফল উপজেলা উপকৃষি কর্মকর্তা রেদোয়ান তালুকদার জুনিয়র বাসসকে বলেন, চলতি বছর বাউফল উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪ হাজার ৭২০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমিতে। আগাম তরমুজ চাষের কারণে কিছু জমিতে আমন আবাদ কমেছে। তবে এবার আমনের ফলন ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পটুয়াখালীতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৩৪ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩৮ হেক্টর জমিতে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮৯৬ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ কম হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. আমানুল ইসলাম বাসসকে বলেন, জেলায় আগাম তরমুজ চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমনের আবাদি জমি কমেছে। তবে একই সঙ্গে অন্যান্য মৌসুমি ফসলের চাষ বেড়েছে।
তিনি বলেন, পটুয়াখালীতে বিআর-২৩, বিআর-১১, বিআর-২২, বিআর-৫১, বিআর-৪৯ ও বিআর-৫২ জাতের ধান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আবাদ হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সাদা মোটা ও লাল মোটা জাতের ধান ৬৫ হাজার ১৬৬ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
No Comment Yet