বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের লড়াই
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ সময়: ১৯:১৮:১৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংসদীয় তিনটি আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর। তবে নেতৃত্বের কোন্দলের কারণে তীব্র সংকটে পড়তে পারেন বিএনপি প্রার্থীরা। তিনটি আসনে প্রার্থীদের প্রথম থেকেই বিরোধিতা করছে বিএনপির বৃহৎ একটি অংশ। তারা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মশালমিছিল ও রেল অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) : বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান মিয়ার নাম ঘোষণা করেছে দলটি। জামায়াত অনেক আগেই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, রাজশাহী মহানগরী আমির ড. কেরামত আলীর নাম ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন ধরে দলটির নেতা-কর্মীরা নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, এ আসনটিতে বিএনপির পাঁচবারের এমপি অধ্যাপক শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ড. কেরামত আলীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। আর নিজেদের বিজয়ের ব্যাপারে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী শতভাগ আশাবাদী।
শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘শিবগঞ্জ বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। ড. কেরামত আলী বলেন, ‘এখানকার মানুষ আগের অনেককেই দেখেছে। এবার তারা পরিবর্তন চায় এবং ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করার জন্য জামায়াতকে বিজয়ী করবে।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনিরুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা করলেও নির্বাচনি কোনো কর্মকাণ্ডে তাঁকে দেখা যায়নি। এনসিপিসহ অন্যান্য দল কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) : এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলামের সঙ্গে জামায়াতের ড. মিজানুর রহমানের লড়াইয়ের আভাস মিলছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এখানে বিএনপির প্রায় এক ডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আমিনুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নবঞ্চিতরা এককাট্টা হয়ে প্রার্থী পরিবর্তন করার দাবি করে আসছেন।
বিজ্ঞাপন
Dutch-Bangla bank New account opening free visa debit card
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে ধানের শীষের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাই আমি আবারও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট উপজেলার মানুষ চাইছেন পরিবর্তন। তারা চাইছেন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব। ফলে এবার জামায়াত বিজয়ী হবে ইনশাল্লাহ।’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের প্রার্থী হিসেবে ডা. মো. ইব্রাহিম খলিলের নাম ঘোষণা করলেও কার্যক্রম চোখে পড়েনি। অন্যান্য দলেরও কোনো প্রার্থীকে ভোটের মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) : এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশিদ। জামায়াতের প্রার্থী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। এখানেও বিএনপির একাংশ প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলছে। স্থানীয়রা বলছেন, আসনটিতে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর জোর লড়াই হবে এবং দুজনই নিজেদের বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আমি পাঁচবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিবারই জয়ী হয়েছি। এবারও ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ।’ নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘অতীতে এ আসনে যারা বারবার এমপি হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা এবার পরাজিত হবেন। এখানকার মানুষ চান পরিবর্তন। চাঁদাবাজি, ঘুষ, সন্ত্রাসকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত এবার তাদের প্রত্যাখ্যান করে এলাকার মানুষ সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নেবে।’ অন্যান্য আসনের মতো এটিতেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ডা. মনিরুল ইসলামের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলেও তাঁর কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত অন্যান্য দলের কোনো প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি
No Comment Yet