মদনে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন, আদালতে দায় স্বীকার

নেত্রকোনার মদন উপজেলার তহুরা আমিন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাওন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন একই বিদ্যালয়ের ১০ম শেণির শিক্ষার্থী বন্ধু মাহফুজুর রহমান ইমরান। 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নেত্রকোনা শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে আদালত আসামি মাহফুজুর রহমান ইমরানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খোরশেদ আলম আজ আসামিকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন জানালে আসামি মাহফুজল শাওন হত্যার দায় স্বীকার করে। মাহফুজুর রহমান ইমরান জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের এনামুল হক মিয়ার ছেলে। 

মদন থানার ওসি হাসনাত জামান বৃহস্পতিবার রাতে মাহফুজুর রহমান ইমরান শিশু আদালতে তার বন্ধু শাওনকে হত্যা করার দায় স্বীকারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খুন হওয়া শাওন রোববার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার দাদার মনোহারী দোকান কদমশ্রী বিকাল বাজারে গেলে অজ্ঞাতনামা দুইজন বন্ধু তাকে ডেকে হাওরের দিকে নিয়ে যায়। রাতে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও তাকে খুঁজে পাননি। পরে সোমবার সকালে ফসলী জমি থেকে নিহত শাওনের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। 

এ ঘটনায় নিহত শাওনের বাবা আওলাদ হোসেন দুলাল বুধবার অজ্ঞাতনামা আসামী করে মদন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় সন্দেহ থাকায় খায়ের ও মাহফুজুর রহমান ইমরান নামে দুই বন্ধুকে আটক করে পুলিশ। তবে পুলিশের নিকট ঘটনার দায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে মাহফুজ। সাথে আরও একজন বন্ধু ছিল বলেও জানায় সে। মাহফুজ তার জবান বন্দিতে বলে, শাওন তার বোনকে প্রায় সময় উত্যাক্ত করত। এ থেকে শাওনের প্রতি তার ক্ষোভ দেখা দেয়। এ থেকেই তাকে খুন করা হয়।

মদন থানার ওসি হাসনাত জামান যুগান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার শিশু আদালতে স্কুল শিক্ষার্থী শাওন হত্যার দায় স্বীকার করেছে মাহফুজ। তবে শাওন মাহফুজের ছোট ক্লাসে পড়লেও তারা পরস্পরের বন্ধু ছিল। একই সাথে তারা চলাফেরা করত। মাহফুজ তার সাথে আরও একজন বন্ধু ছিল বলেও আদালতে জবান বন্দি দিয়েছে।

0%
0%
No Comment Yet