বিসিএস ক্যাডার হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬ সময়: ০৬:৫৭:০০
৪৫তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা (ভূগোল) ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী তানিয়া সুলতানা। হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে কিভাবে তিনি কাক্সিক্ষত সাফল্য
অর্জন করেছেন সে বিষয়ে কথা বলেছেন- এম এম উজ্জ্বল।
প্রশ্ন: আপনার পড়াশোনা কোথায়, কোন বিষয়ে?
তানিয়া: আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি।
প্রশ্ন: বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য আপনি কখন কীভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেন?
তানিয়া: আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমি যেন বিসিএস ক্যাডার হই। তিনি সব সময় আমাকে স্বপ্ন দেখাতেন। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে আমি বিসিএস ক্যাডারভুক্ত চাকরির জন্য আগ্রহী হয়ে উঠি। এছাড়াও আমাকে নিয়ে আমার পরিবারের প্রত্যাশাও ছিল অনেক। বিশেষ করে আমার বড় ভাই-বোনদের সমর্থন, বাবার স্বপ্নই আমাকে এই পথে আগ্রহী করে তোলে। তাদের সাহায্য সহযোগিতা আমার যাত্রাকে আরও সহজ করে তোলে।
প্রশ্ন: স্নাতক পর্যায়ে পঠিত বিষয় বিসিএস প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো সাহায্য করেছে কি? যদি করে তাহলে কীভাবে?
তানিয়া: স্নাতক পর্যায়ে পঠিত বিষয় বিসিএসে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমাকে অনেকটাই সাহায্য করেছে। যেহেতু প্রিলিতে ভূগোল বিষয়ে ১০ নম্বর এবং বাংলাদেশ বিষয়াবলির ৩০ নম্বর বরাদ্দ থাকে, সেখানে আমার পঠিত বিষয়কে কাজে লাগানোর সুযোগ ছিল। এছাড়া রিটেনের বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রস্তুতিতেও আমার পঠিত বিষয় বেশ সাহায্য করেছে।
প্রশ্ন: হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করে বিসিএস ক্যাডার হতে আপনার কি ধরনের কৌশল ছিল?
তানিয়া: কৌশল যদি বলি সেটা আমার ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ- যা বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিয়মিত ধৈর্যসহকারে পড়াশোনা করেছি যে কারণে টানা ৪৪তম, ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম এবং ৪৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হতে পেরেছি। প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির জন্য আমি অনলাইন এবং অফলাইনে প্রচুর পরীক্ষা দিতাম। লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার দরুন গণিত ও বিজ্ঞান নিয়ে আমাকে খুব বেশি ভাবতে হয়নি। বাকি বিষয়গুলো নোট করে পড়েছি।
প্রশ্ন: ভাইভায় ভালো নম্বর পেতে আপনি কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন?
তানিয়া: ভাইভায় ভালো নম্বর পেতে ভাইভা কেন্দ্রিক পড়াশোনার পাশাপাশি আমি প্রচুর পত্রিকা পড়েছি। এক্ষেত্রে বিসিএস ভাইভার জন্য বাজারে প্রচলিত বই আমাকে বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।
প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় সরকারি চাকরি পেতে হলে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ? যদি গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে কীভাবে?
তানিয়া: আমি মনে করি, যে কোনো সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভালো পরিবেশ আপনাকে মানসিক শান্তি দিবে। অনেক সময় চারপাশে থাকা ইতিবাচক মানসিকতার মানুষ আপনাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে সাহায্য করবে।
প্রশ্ন: নতুন যারা বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসে আসতে চাচ্ছেন তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?
তানিয়া: আমার পরামর্শ থাকবে নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে ভালো প্রস্তুতি নিন। সকল বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করুন। সফলতা না আসা পর্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে, ধৈর্যসহকারে পড়াশোনা করতে থাকুন। আর অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখুন। মনে রাখবেন, যথাযথভাবে পরিশ্রম করতে পারলে সফলতা অবশ্যই ধরা দেবে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
No Comment Yet