শীতে শহরবাসীর পিঠার উৎস কেবলই ফুটপাত 

খুব বেশি সময় নয়, বছর ১০ দশেক হবে শীতের আগমনে শহরের অনেক বাড়িতেই গৃহকত্রী লাকড়ির চূলায় অনেক ধরনের পিঠা পায়েস তৈরি করতো। সময়ের সাথে সাথে রান্নাঘরে ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়েছে। লাকড়ির চুলার পরিবর্তে সেখানে ব্যবহার হচ্ছে গ্যাসের সিলিন্ডার, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ,ইনডাকশন, ওভেন।
সাথে পরিবর্তন হয়েছে রান্নার ধরন। এই পরিবর্তন যত ই হোক মুখে লেগে থাকা স্বাদ মনে টানে সেই দেশী পিঠাতেই। এক সময় শীতকালে মা কাকিরা ঘড়ে ঘড়ে পিঠা তৈরি করতে ব্যস্ত থাকতেন। সেমাই পিঠা,পুলি পিঠা, ভাপা পিঠা, চিতাই পিঠা, পাটিশাপটা পিঠা, ছিট রুটি, রসা পিঠা সহ নাম না জানা অনেক পিঠার আয়োজন হতো। বাঙ্গালী ঐতিহ্যে পিঠা একটি বড় অংশ ছিল। কালের স্রোতে সেই ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে। আর এই স্বাদের তৃপ্তি মেটাতে শহরের সকলের ভরসা এখন ফুটপাতে হকারদের হাতে তৈরি পিঠায়। বিকাল থেকে শুরু হয় ফুটপাতে পিঠা তৈরির আয়োজন চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় ফরিদপুর শহরের খাবাসপুর মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাসস্ট্যান্ড, নিউ মার্কেট গেট, চকবাজার মসজিদ সড়কে, শিশু হাসপাতালের মোড়ে, খাবাসপুর মোড়, বিলটুলী মোড়ে, রাজেন্দ্র কলেজের মোড়ে রাস্তায় বিভিন্ন  পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত মহিলারা।
এসব পিঠার দোকানে সকল পেশার মানুষ দোকানের সামনে বসে পিঠা খাচ্ছে। আবার অনেকে পিঠা পার্সেল করে বাড়িতে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পিঠা বিক্রেতা শরিফা বেগম জানালেন, বিকাল থেকে রাত ১০টা ১১ টা পর্যন্ত পিঠা খেতে মানুষ আসে। প্রতিদিন ৭/৮ কেজি চালের পিঠা বিক্রি করি। এতে ভালোই আয় রোজগার হয়। চিতাই পিঠা, ভাপা পিঠা তৈরি করছি। চিতাই পিঠার সাথে থাকে সরিষা ভর্তা, ধনিয়া পাতা বাটা ও শুঁটকি ভর্তা।
তবে ফরিদপুর শহরে কোথায় ও ভিজানো চিতাই পিঠা পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন অনেক ক্রেতা। 

বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

0%
0%
No Comment Yet