আম-লিচু-আনারসে জমে উঠেছে ওয়াইজঘাটের ফলের আড়ত

ঢাকা, ২২ মে, ২০২৬ (বাসস): দেশি ফলের জন্য বিখ্যাত পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাট ফলের আড়ত এখন গ্রীষ্মকালীন নানা ফলে সরগরম। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ফলের বাজারটিতে এখন শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন জাতের আম, লিচু, আনারস, তরমুজ, তাল, কাঁঠালসহ নানা মৌসুমি ফল।

ওয়াইজঘাটের আড়তে ইতোমধ্যে আসতে শুরু করেছে হিমসাগর, গুটি, গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ জাতের আম। পাশাপাশি পাবনার লিচু, টাঙ্গাইলের আনারস, রাঙামাটির কাঁঠাল ও বরিশালের তালসহ বিভিন্ন জেলার ফলেও জমে উঠেছে বাজার। এতে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম প্রাচীন এই ফলের আড়ত।

মধুমাস বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠকে কেন্দ্র করেই মূলত ওয়াইজঘাটে দেশি ফলের মৌসুম শুরু হয়। তবে এখন শুধু আম-লিচুই নয়, বাজারে দেখা মিলছে গ্রীষ্মের আরও নানা ফলের।

সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের আনারস, বাঙ্গি ও নাটোরের তরমুজে ভরে উঠেছে আড়তগুলো। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে ফলের সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন ক্রেতার চাহিদাও বাড়বে।

আড়তে ঘুরে দেখা যায়, নাটোর থেকে আসা বড় আকারের তরমুজ পাইকারি বাজারে প্রতিটি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় এবং ছোট আকারের তরমুজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আড়তের ব্যবসায়ী সাইদ হোসেন বলেন, ‘তরমুজের মৌসুম প্রায় শেষের দিকে হলেও বাজারে এখনো এর চাহিদা রয়েছে। গরম বাড়লে তরমুজের বিক্রিও বাড়ে। তবে বর্তমানে মধুমাসের অন্যান্য ফলের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।’

সাতক্ষীরা থেকে আসা হিমসাগর আম পাইকারি বাজারে ৪০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গোবিন্দভোগ আমের দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং গোপালভোগ আম ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গুটি আম পাইকারি বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আমের পাইকার বাওয়াল ফার্মের কর্মচারী মোহাম্মদ শিপন বলেন, ‘মৌসুমের শুরু হওয়ায় বর্তমানে আমের চাহিদা কিছুটা কম। তবে সামনে চাহিদা বাড়লে বিক্রিও বাড়বে। বিশেষ করে ঈদের আগে ও পরে বাজার আরও জমে উঠবে বলে আশা করছি।’

পাবনা থেকে আড়তে আসছে বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু। বোম্বাই লিচু পাইকারি বাজারে প্রতি হাজার ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি’শ বোম্বাই লিচু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং চায়না-৩ জাতের লিচু প্রতি’শ ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

যশোর থেকে আসছে ড্রাগন ফল। পাইকারি বাজারে এসব ফল ১৮০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া বরিশাল থেকে আসা তাল বর্তমানে প্রতি ছড়ি ৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা অবস্থায় এসব তালের শাঁস খেতে পছন্দ করছেন ক্রেতারা।

রাঙামাটি থেকে আসা ছোট আকারের কাঁঠাল পাইকারি বাজারে প্রতিটি ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং বড় আকারের কাঁঠাল ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া টাঙ্গাইল ও রাঙামাটি থেকে আসা আনারস পাইকারি বাজারে প্রতিটি ২৮ থেকে ৪০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ওয়াইজঘাটের খুচরা আনারস বিক্রেতা মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, ‘গরম বাড়তে শুরু করায় আনারসের চাহিদা এখন মোটামুটি ভালো। সামনে তাপমাত্রা আরও বাড়লে বিক্রিও বাড়বে।’

পুরান ঢাকার বাসিন্দা আবদুল্লাহ মামুন বলেন, ‘ওয়াইজঘাটে আম-লিচু কিনতে এসেছি। দাম এখন একটু বেশি, তবে কিছুদিনের মধ্যে কমে আসবে বলে আশা করছি। বাজারে এখনো ফলের সরবরাহ পুরোপুরি বাড়েনি।’

0%
0%
No Comment Yet