মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় ক্ষোভ: ভারতে মেডিকেল কলেজের স্বীকৃতি বাতিল
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬ সময়: ০৫:১৫:২৩
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর টানা বিক্ষোভের মুখে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে অবস্থিত একটি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করেছে দেশটির জাতীয় মেডিকেল কমিশন (এনএমসি)। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় রাজনৈতিক চাপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট বিতর্কিত এই ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরায় অবস্থিত ‘শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্স’ (এসএমভিডিআইএমই)-এ। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম এমবিবিএস ব্যাচে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জনই ছিলেন মুসলিম। এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পর ‘শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী সংগ্রাম সমিতি’-সহ প্রায় ৬০টি বিজেপি ও আরএসএস ঘনিষ্ঠ সংগঠন কলেজটির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের দাবিতে প্রশাসনের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।
এনএমসি-র যুক্তি ও কর্তৃপক্ষের দাবি চলতি মাসে এক আকস্মিক পরিদর্শনের পর এনএমসি জানায়, কলেজটির অবকাঠামো, পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং ক্লিনিক্যাল সুবিধায় গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। এই অজুহাতে তারা কলেজের এমবিবিএস কোর্সের অনুমতি বাতিল করে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদনকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, আন্দোলনকারীদের তুষ্ট করতেই এনএমসি আগে থেকে কলেজটি বন্ধের পরিকল্পনা নিয়ে পরিদর্শনে এসেছিল।
ওমর আবদুল্লাহর প্রতিক্রিয়া জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ একটি মেডিকেল কলেজ পাওয়ার জন্য লড়াই করে, আর এখানে যা পেয়েছিলাম তা বন্ধ করার জন্য আন্দোলন হয়েছে—এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” তিনি এই ব্যর্থতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শীর্ষ প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করেছেন।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাকিনা ইতোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন ওই ৫০ জন শিক্ষার্থীকে তাদের নিজ নিজ এলাকার নিকটবর্তী সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে দ্রুত স্থানান্তর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
Shwapno Super Shop
শিবসেনা, আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেস-সহ ভারতের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, শিক্ষার মতো একটি পবিত্র ক্ষেত্রে ধর্মীয় মেরুকরণ দেশের ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ।
শেখ ফরিদ
No Comment Yet