মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া কি ক্ষতিকর? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ সময়: ০৬:১৪:৪২
মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস স্বাভাবিক নয় এবং এটি শরীরের জন্য নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে শ্বাসতন্ত্র, দাঁত, মাড়ি ও ঘুমজনিত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষ ঘুমের সময় জোরে নাক ডাকেন, যার একটি প্রধান কারণ মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া। এতে টনসিল বড় হয়ে যেতে পারে এবং ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়। পাশাপাশি মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে মুখের ভেতরের মাড়ি ও টিস্যু শুকিয়ে যায়, ফলে মুখের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে মাড়ির রোগ ও দাঁত ক্ষয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা ফুসফুসের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
এছাড়া, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে চোখের চারপাশের শিরা প্রসারিত হয়ে ডার্ক সার্কল বা চোখের নিচে কালো দাগ দেখা দিতে পারে। নাকের ভেতরে থাকা সূক্ষ্ম সিলিয়া সাধারণত জীবাণু ছেঁকে দেয়, কিন্তু মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে এই সুরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে জীবাণু সরাসরি গলায় প্রবেশ করে। ফলে সর্দি, সাইনাসের সংক্রমণ, জ্বর ও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ে।
শিশুদের ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মুখমণ্ডলের গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে চোয়াল নিচের দিকে বেড়ে যাওয়া, দাঁত বেঁকে যাওয়া, লং ফেস সিনড্রোম, ওপরের ঠোঁট বেরিয়ে থাকা এবং নাক ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
Dutch-Bangla bank New account opening free visa debit card
চিকিৎসকরা জানান, সর্দি বা নাক বন্ধ থাকলে সাময়িকভাবে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস থাকলে তা শরীরের কোনো বড় রোগের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সব সময় মুখ শুকনো থাকা, মুখে দুর্গন্ধ, নিয়মিত নাক ডাকা, লালা ঝরা বা ঘুম থেকে উঠে ক্লান্ত ও বিরক্ত বোধ করার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের উপসর্গ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
No Comment Yet