জামালপুর-১ আসন ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভোটের কঠিন সমীকরণ

জামালপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামালপুর-১ আসনে এবার সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের আভাস মিলছে। এই আসনে বিএনপির হ্যাভিওয়েট প্রার্থীর বিপরীতে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা। পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও মূল লড়াই জমে উঠেছে তিন প্রার্থীর মধ্যে।

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর স্রোতে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত, ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা সম্ভাবনাময় দুই উপজেলা দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ নিয়েই গঠিত জামালপুর-১ আসন। নদীভাঙন, সীমান্ত চোরাচালান ও কর্মসংস্থানের সংকট এখানকার ভোটারদের প্রধান দুশ্চিন্তা। ভোটারদের ভাষায়—এই সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান যিনি দিতে পারবেন, ভোট যাবে তার দিকেই।

স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে এই আসনে বিএনপি জয় পেয়েছে মাত্র দু’বার—১৯৯৬ সালে তিন মাসের জন্য এবং ২০০১ সালে। এবার মাঠে রয়েছে বিএনপির সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী, সাবেক বিএনপি নেতা ও চারবারের উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদারসহ মোট পাঁচজন প্রার্থী।

দুই উপজেলা, দুই পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৫ হাজার ৮৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৫২৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৩৫৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।

নির্বাচনী প্রচারণায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ, বেকারত্ব দূরীকরণ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতিতে মুখর পুরো আসন। অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে তিন প্রার্থীর মধ্যে ভোটের হিসাব দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে জনগণের সঙ্গে আছি। সেই আস্থার জায়গা থেকেই আমি আশাবাদী। জনগণের রায়ই চূড়ান্ত।’ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী বলেন, ‘একটি সুন্দর ও কল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়তে জামায়াত ইসলামীকেই মানুষ বেছে নেবে। বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জের জনগণ দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবে।’ বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘যার হাতে দেশ ও এলাকা নিরাপদ থাকবে, নদীভাঙন রোধ হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে—ভোটাররা তাকেই নির্বাচিত করবে।’ ভোটারদের কথায়ও উঠে এসেছে একই প্রত্যাশা।

দেওয়ানগঞ্জের ভোটার রুমেল বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে যে বাস্তব কাজ করবে, মানুষ তাকেই ভোট দেবে।’ বকশীগঞ্জের ভোটার মতিন রহমান বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান ও মাদক আসে—যে এটা বন্ধ করতে পারবে, আমরাই তাকে নির্বাচিত করবো।’ আরেক ভোটার জয় দাঙ্গো বলেন, ‘যোগ্য, সৎ এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারবে—আমি তাকেই ভোট দেবো।’ সব মিলিয়ে জামালপুর-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভোটের সমীকরণ দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে এই আসন—তা জানতে অপেক্ষা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত।

0%
0%
No Comment Yet