যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সময়: ১০:০৯:৪২
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বুধবার রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও টাঙ্গাইল জেলা সফর করেন। এ সময় তিনি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এর আগে মঙ্গলবার তিনি গাজীপুর ও ময়মনসিংহ সফর করেন তিনি। খবর স্টাফ রিপোর্টার, নিজস্ব সংবাদদাতা ও সংবাদদাতাদের।
‘যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তিস্তা এ অঞ্চলের মানুষের অহংকার, এখন তিস্তার নাম এক সাগর দুঃখ। আমরা কথা দিচ্ছি, যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। বুধবার দুপুরে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের যৌথ আয়োজনে তিস্তা ব্যারেজের হেলিপ্যাড মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা জাতির সঙ্গে দীর্ঘসময় বেঈমানি করেছে, আগামীর নির্বাচন তাদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন। রাজনীতির নামে ব্যবসা নয়, চাঁদাবাজি নয়; এটি হচ্ছে রাজার নীতি। আগামী ১৩ তারিখ বাংলাদেশের পূর্ব আকাশে একটি নতুন সূর্যের উদয় হোক। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
তিনি বলেন, তিস্তা নদীর পানি সারা উত্তরবঙ্গকে উর্বর করে তুলবে। আর নদীভাঙনের কবলে হাজার হাজার পরিবারকে নিঃস্ব হতে হবে না। তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। কারণ আমার দেশ আগে, এদেশের জনগণের স্বার্থ আগে। আমরা কারো স্বার্থে আঘাত দেবো না কিন্তু কেউ আগে আমাদের স্বার্থে আঘাত করলে সেটা মেনে নেবো না। এখন অনেক যৌক্তিক দাবি রয়েছে, তাদের মধ্যে বুড়িমারি স্থলবন্দর আধুনিকায়ন করতে হবে।
ডা. শফিক বলেন, তিস্তাপাড় থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অনেকে বসন্তের কোকিলের মতো একবার দেখা দেয়। আমরা বসন্তের কোকিল না, দুঃখের সময়েও আছি ভালো সময়েও আছি। আমরা বিপদের সময়ে দেশ ছেড়ে চলে যাই না, মাটি কামড়ে ধরে থাকি। আমরা দেশবাসীর বুকে আশ্রয় চাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন ক্ষমতা পালাবদলের সময় এসেছে। আপনারা বিশ্রামে যান, আমাদের সুযোগ দেন। আমরা কখনও দেশের মানুষকে ছেড়ে যাব না। আমরা ঘোষণা দিয়েছি, উত্তরবঙ্গকে দেশের কৃষিভিত্তিক রাজধানী গড়ে তুলব। যখন কর্মসংস্থান হবে, তখন সারাদেশ উন্নত হবে। এ অঞ্চলের উৎপাদিত শস্য শুধু দেশের চাহিদা নয়, বিদেশে রপ্তানি করাও যাবে। আল্লাহ যদি আমাদের এ দেশ নেওয়ার সুযোগ দেন। আমার যদি আপনাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারি, দেশে যারা আছে সবাইকে নিয়ে আমরা বাংলাদেশ গড়তে চাই। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।
তিনি নারীদের উদ্দেশ করে বলেন, বর্তমানে মা-বোনেরা লাঞ্ছিত হচ্ছে। আমরা বলে রাখি, প্রয়োজনে জীবন দিব; তবুও মা-বোনের ইজ্জত কাউকে কেড়ে নিতে দেব না। এদেশের ৯ কোটি নারী আমাদের মা। তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে আমরা দেখি। তারা শিক্ষিত হবেন, দেশ গড়তে দায়িত্ব নিবেন। তারা কর্মস্থানে কাজ করবেন ইনশাআল্লাহ। তারা সব জায়গায় থাকবে, নিরাপদভাবে কাজ করবে মর্যাদার সঙ্গে। আমরা নারী জাতির জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ।
গণভোট সম্পর্কে জামায়াতে আমির বলেন, আমাদের দুটি ভোট। একটি হচ্ছে গণভোট- সেখানে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি আর ‘না’ মানে গোলামি। আমরা সবাই ১২ তারিখের প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’তে দেব ইনশাআল্লাহ। আমরা সবাইকে ‘হ্যাঁ’তে ভোট দেওয়ার জন্য বলব। একটি দল ‘না’ ভোট বলেছিল যখন দেখে জনস্রোতে ভেসে যাবে, তখন ‘হ্যাঁ’তে ভোট দিতে বলেছে। আমরা তাদের প্রতি জানাই মোবারকবাদ।
এসময়ে লালমনিরহাট জেলা আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ও জেলা উপজেলার বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে জামায়াত আমির নীলফামারীর চারটি আসন ও লালমনিরহাটের তিনটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
কুড়িগ্রাম ॥ একই দিন সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, আমাদের সবকিছুর বিনিময়ে গৃহে এবং কর্মস্থলে নারীদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।’ জনসভায় নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জুলাই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর বলেন, মা, তোমাদের সালাম। মায়েদের যে অবদান তা ভোলার নয়। পুলিশের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে তারা বলেছেন, পেছনে পুলিশ, সামনে স্বাধীনতা। তারা স্বাধীনতা বেছে নিয়েছেন।’
জামায়াত আমির বলেন, যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা তুলে দেবো না। সবগুলো হাতকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করবো। আমাদের তরুণ-তরুণীরা কাজ পাবে। মায়েরাও কাজ পাবে। সেই গতিতেই বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাবে। যুবকরা তৈরি হয়ে যাও। বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দেবো। এবার আমরা এগিয়ে যাবো। কেউ থামাতে পারবে না। বাধা মানবো না। কোনোভাবে এবার জনতার বিজয় আর ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্রের চৌকিদার উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, যারা রাষ্ট্রের দায়িত্বে যাবে এই রাষ্ট্রের তারা মালিক নন, তারা এই রাষ্ট্রের চৌকিদার। চৌকিদারের মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, একটি দল এবং তাদের লেলিয়ে দেওয়া কিছু কা-জ্ঞানহীন মানুষ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মা-বোনদের, নারীদের গায়ে হাত দিচ্ছে। তারা হুমকি দিচ্ছে, কাপড় খুলে নেবে। নেকাব এবং হিজাব পরে আসলে পুড়ে ফেলবে। তারা বলছে, নারীদের যেখানে পাও পেটাও। লজ্জা, লজ্জা। এরা কী মায়ের পেট থেকে আসে নাই? যদি মায়ের পেট থেকে এসে থাকে তাহলে মায়ের গায়ে হাত দেয় কীভাবে? এ ধরনের বেপরোয়া, বেহায়া কথা বলে কীভাবে তারা।
নিজের এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব দুষ্টু লোকের দুষ্টুমির প্রতিবাদ করি। এজন্য আমার পেছনে লেগে গেছে। আমার এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক করে যা তা লিখে চালায় দিয়েছে। এমনি একটা দল ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাইরে-নাইরে বলে গান শুরু করছে। লজ্জা। ওদের বড় বড় নেতাগুলো একই গান গাওয়া শুরু করলো। কা-জ্ঞান কোথায়? আমাদের সাইবার টিম ওদের শক্তভাবে ধরে ফেলেছে। আপনারা দেখেছেন, মেইন কালপ্রিট যে, তাকে গতকাল পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। মেঘ সূর্যকে আড়াল রাখতে পারে না। সত্য এখন মানুষের দ্বোরগোড়ায় এসে বলছে জেগে উঠো। সামনে এগিয়ে যাও। পেছনে তাকানোর সময় নেই।
জামায়াত আমির নারীদের উদ্দেশে বলেন, মায়েরা ভয় পাবেন না। আমি জানি আপনারা ভয় পান না। তারপরও আপনাদের সন্তান হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আপনাদের শক্তি সাহস জোগানো। আপনারা লড়ে যাবেন, চোখ চোখ রেখে কথা বলবেন। এটা আমার বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আর কোনও জমিদার মেনে নেবো না। এই বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ। আমরা কথা দিচ্ছি। আপনাদের আবাসস্থলে, রাস্তাঘাটে চলাচলে, কর্মস্থলে-সব জায়গায় আপনাদের শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, আমার এই দেশ, যে দেশে আমার মায়ের নিরাপত্তা থাকবে। আমার বোনের, আমার মেয়ের নিরাপত্তা থাকবে। গৃহে এবং কর্মস্থলে চলাচলে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা জাত দেখবো না, ধর্ম দেখবো না। আসমানের নিচে জমিনের ওপরে যারাই নারী জাতির গর্বিত সদস্য তাদের সম্মান করা আমাদের সবচাইতে বড় দায়িত্ব।
কুড়িগ্রাম জেলা দেশের সবচেয়ে অবহেলার শিকার উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার দুঃখ তিন তিনটি নদী। আমাদের নদীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। সবগুলো চোর। ৫৪ বছরে যতগুলো টাকা নদী শাসনে, নদী ভাঙন রোধে যতগুলো বাজেট হয়েছে সব তাদের পেটে হজম করে নিয়েছে। কাজ করে নাই। কুড়িগ্রামবাসী কথা দিচ্ছি, আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, ওদের মুখের ভেতর দিয়ে হাত পেট পর্যন্ত ঢুকায় সব বের করে আনবো। জনগণের টাকা রাষ্ট্রের তহবিলে জমা হবে। কথা দিচ্ছি, সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা এই কুড়িগ্রাম থেকে আমাদের উন্নয়ন শুরু হবে। কোনও দাবি জানাতে হবে না। এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এরপর যেটা এমন বঞ্চিত জেলা তারপর সেখানে যাবো। বঞ্চিতদের আর কোনও মিছিল করার প্রয়োজন হবে না। উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানীতে পরিণত করবো।
সভায় জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কুড়িগ্রাম ১, ৩ ও ৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনে এসসিপির প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। সভায় জামায়াত আমির প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। পরে তিনি লালমনিরহাটের উদ্দেশে রওনা হন।
টাঙ্গাইল ॥ জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামি ১২ তারিখ জাতীয় নির্বাচন। এবারের নির্বাচন সাড়ে ১৪শ’ শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ও আন্দোলনে পঙ্গুত্ব বরণ করা ৩৪ হাজার আহতের নির্বাচন। এই নির্বাচন শহীদ পরিবারের হাহাকারের নির্বাচন। অতএব এই দৃষ্টিকোণ থেকে নির্বাচন করতে হবে। বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনে দুটি ভোট। প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ইনশাল্লাহ। ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতবে। ‘না’ ভোট জিতলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামী। অনেকে ইতোপূর্বে ‘হ্যাঁ’ ও বলে নাই, ‘না’ ও বলে নাই। এখন হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলছেন- অভিনন্দন, মোবারকবাদ।
দ্বিতীয় ভোটটা দেশ গড়ার ভোট। আগামিতে যারা সরকার চালাবে তারা, যারা অতীতে ভালো মানুষ প্রমাণিত হয়েছে তারা। বারবার সুযোগ পেয়েও যারা দুর্নীতিতে বিভিন্নভাবে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল- তাদের নতুন করে আর দেখার কিছু নাই। এমনকি এখনো যারা দুর্নীতিতে লিপ্ত আছে তাদেরকে আর নতুন করে দেখার সুযোগ নাই।
গাজীপুর ॥ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কোনো সাময়িক বা ক্ষুদ্র দাবির জন্য নয়; এটি ছিল ন্যায়বিচার, ইনসাফভিত্তিক কর্মসংস্থান ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, যেখানে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-যুবক ও নারীরা একটি মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। মঙ্গবার গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভা প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নারী ও শ্রমিক অধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, একই কাজ করেও নারী শ্রমিকরা কম মজুরি পাচ্ছেন, যা সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী; ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রে এ ধরনের বৈষম্যের কোনো স্থান থাকবে না। মাতৃত্ব সুরক্ষার প্রসঙ্গে তিনি সময়োপযোগী প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, সন্তান গর্ভে আসার পর থেকে জন্ম ও লালন-পালনের প্রথম দুই থেকে আড়াই বছর নারীদের দৈনিক কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে এবং বাকি সময়ের বেতন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় নিশ্চিত করা হবে, কারণ একটি সুস্থ মা ও সুস্থ শিশুই সুস্থ সমাজের ভিত্তি। রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকের সন্তানও মেধাবী হলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে-এটাই ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের পরিচয়।
ময়মনসিংহ ॥ জেলায় নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ এখন আর পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি দেখতে চায় না। দেশের মানুষ দলীয় সরকার নয়, জনগনের সরকার দেখতে চায়। তিনি মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে জামায়াত মহানগর ও ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।তিনি এসময় আরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের বার্ষিক মোট বাজেটের চার গুন। দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে রাজার আদলে বসবাস করবেন-আমরা তাদের ঘুম হারাম করে দেব।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
আল্লাহ তৌফিক দিলে ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে পাচারের সেই টাকা দেশে নিয়ে আসব। ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠের জনসভায় তিনি আরো বলেন, মানুষ বাংলাদেশের পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন কোন সাধারণ নির্বাচন না। এবারকার নির্বাচন জাতিকে উপযুক্ত রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে দেওয়ার নির্বাচন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরকে স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়া তোলা হবে। নারী পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে করা হবে।
জামায়াতের আমীর মঙ্গলবার দুপুরে হেলিকপ্টারে করে ময়মনসিংহ পৌছান। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠের মঞ্চে উঠে দুই হাত নেড়ে সামনের সারিতে বসা দর্শকদের অভিবাদন জানান জামায়াতের আমির। ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-১১টি সংসদীয় আসনে ১১ জোট মনোনীত প্রার্থীরা। সভা শুরুর আগে সকাল থেকে নেতা ও কর্মী সমর্থকদের সার্কিট হাউসমুখী মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো নগরী।
জামায়াত আমীর বলেন, আমরা ঘোষণা দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ আগামী ১৩ তারিখ থেকে যদি নতুন বাংলাদেশ আল্লাহর ইচ্ছা এবং আপনাদের মায়াবী হাতের ভোটের মাধ্যমে ইনসাফের পক্ষে যদি রায় আসে, আল্লাহ যদি ১১ দলকে দেশবাসীর সেবা করার তৌফিক দেন তাহলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন যাদেরকে ভোট দিলে বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে তাদেরকে ভোট দিবেন? যারা ৫ আগস্টের পর থেকে জনগণের জানমাল খাওয়ার জন্য চাঁদা বাণিজ্য শুরু করেছে তাদেরকে ভোট দিবেন? যারা মামলা বাণিজ্য করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে তাদেরকে দিবেন? যারা ঋণ খেলাপীদেরকে নিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলছে ওদেরকে দিবেন? তিনি বলেন এদেশে পরিক্ষিত পরিচিত যারা ন্যায়ের পক্ষে মদিনার আদলে ইনসাফ কায়েমের পক্ষে থাকবেন এবার বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা তাদের পক্ষে থাকবেন ইনশাআল্লাহ।
আজ রাজশাহীর চার জেলায় যাচ্ছেন জামায়াত আমীর ॥ আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচনী সফরে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁ যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসিবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন।
জানা যায়, জামায়াত বেলা ১১ টায় নওগাঁ, দুপুর সাড়ে ১২ টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বেলা আড়াইটায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহীর ঐতিহাািসক মাদ্রাসা মাঠের বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন। একইদিন সন্ধ্যায় তিনি নাটোরে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিবেন।
দলীয় শীর্ষ নেতার জনসভা ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্ততি গ্রহণ করা হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী অঞ্চলে জামায়াতের রাজনীতিতে চাঙা পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর জামায়াত নেতারা জানান, জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মঞ্চ নির্মাণ, মাঠের সাজসজ্জা, মাইকিং ও ব্যানার-ফেস্টুনসহ প্রচার-প্রচারণার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। জনসভাকে ঘিরে রাজশাহী মহানগরী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলাগুলোতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
No Comment Yet