অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের রোগীদের বেঁচে থাকার সময় দ্বিগুণ করতে পারে নতুন ওষুধ
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ সময়: ১৩:১৯:০৭
অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী ক্যান্সার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রোগটি সাধারণত দেরিতে ধরা পড়ে এবং প্রচলিত চিকিৎসার প্রতিও তুলনামূলকভাবে কম সাড়া দেয়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই পরিস্থিতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
নতুন একটি ওষুধ ডারাক্সোনরাসিব উন্নত বা মেটাস্ট্যাটিক অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার সময় দ্বিগুণ করতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এএসসিও ২০২৬ বার্ষিক সম্মেলনে এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয় এবং মর্যাদাপূর্ণ চিকিৎসা জার্নাল ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’-এ তা প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণার সহ-লেখক এবং টেক্সাসের এমডি অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারের চিকিৎসক ডা. শুভম পান্ত বলেন, এটি গত ৫০ বছরের মধ্যে অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হতে পারে।
তিনি জানান, এই ওষুধটি মূলত ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী জিনগত পরিবর্তন কেআরএএস মিউটেশন লক্ষ্য করে কাজ করে, যা অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই কেআরএএস মিউটেশনকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘আনড্রাগেবল’ বা ওষুধ দিয়ে লক্ষ্য করা প্রায় অসম্ভব হিসেবে ধরা হতো।
ডা. পান্ত বলেন, ‘কেআরএএস প্রোটিন এমন একটি সুইচের মতো, যা সবসময় ‘অন’ অবস্থায় আটকে থাকে। ডারাক্সোনরাসিব সেই সুইচকে বন্ধ করতে সাহায্য করে, ফলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি বন্ধ হয়।’
তিনি আরও জানান, আগের বহু ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের চিকিৎসায় খুব সামান্য অগ্রগতি পাওয়া গেছে, কিন্তু এই নতুন ওষুধটি তুলনামূলকভাবে রোগীদের বেঁচে থাকার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে—যা অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ হয়েছে।
কীভাবে কাজ করে এই ওষুধ
গবেষকদের মতে, ডারাক্সোনরাসিব একটি নতুন শ্রেণির ওষুধ—আরএএস ইনহিবিটার, যা সক্রিয় আরএএস প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে। এটি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি থামিয়ে কোষ ধ্বংসে সহায়তা করে।
ডা. পান্ত এটিকে ‘মলিকিউলার গ্লু’ বা আঠার মতো একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী সিগন্যাল বন্ধ করে দেয়।
রোগীর জীবনমানেও উন্নতি
শুধু বেঁচে থাকার সময়ই নয়, গবেষণায় দেখা গেছে রোগীদের দৈনন্দিন জীবনমানেও উন্নতি হয়েছে। অনেক রোগীর ব্যথা কমেছে, ওজন হ্রাস ও হজমজনিত সমস্যা কম অনুভূত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, টিউমার ছোট হয়ে যাওয়ায় ব্যথা ও অস্বস্তি কমেছে, ফলে রোগীরা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিতে ছিলেন এবং ব্যথার ওষুধের প্রয়োজনও কম হয়েছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
গবেষণায় কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ছিল ত্বকে র্যাশ, যা প্রায় ৯০ শতাংশ রোগীর মধ্যে দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া মুখে ঘা (স্টোমাটাইটিস), হালকা ডায়রিয়া ও বমিভাবও রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এগুলো নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
বাজারে কবে আসবে?
বর্তমানে ওষুধটি যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে এটি রোগীদের জন্য ব্যবহারযোগ্য হবে।
ভবিষ্যৎ গবেষণা
গবেষকরা ইতিমধ্যে ‘আরএএসোলুট ৩০৩’ নামে নতুন একটি ট্রায়াল শুরু করেছেন, যেখানে এই ওষুধটি প্রাথমিক পর্যায়ে কেমোথেরাপির সঙ্গে এবং এককভাবেও ব্যবহার করে আরও ভালো ফল পাওয়া যায় কি না তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই ওষুধটি বিশ্বব্যাপী অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি এটি ব্যাপকভাবে অনুমোদন ও সহজলভ্য হয়।
সূত্র: এনডিটিভি
No Comment Yet