১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে সরকার কাজ করছে : শামা ওবায়েদ
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ সময়: ০৮:৫১:৫১
ঢাকা, ২৬ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় মাত্রায় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আজ রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি-২০২৬: দ্য ক্যাপিটাল ডায়ালগ’ শীর্ষক এক রুদ্ধদ্বার গোলটেবিল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে আমাদের প্রয়োজনীয় পরিসরের বিনিয়োগ দরকার। সেই মাত্রার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আমরা কাজ করছি।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর বাড়তি গুরুত্বের অংশ হিসেবে গত ১৩ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স’-এর ধারাবাহিকতায় এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করছেন।
তিনি বলেন, ‘অনেক দেশ ইতোমধ্যেই বিভিন্ন খাতে কীভাবে বিনিয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে।’ সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকারের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে এবং সে লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়, পুঁজিবাজার, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), ব্যবসা পরিচালনার সহজীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
দেশে আরো বেশি বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা দূর করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, বৈঠকে উত্থাপিত সুপারিশ ও উদ্বেগগুলো সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সরকার আলোচনা করবে।
শামা বলেন, বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগকারীর সামনে ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে নিজ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রবাসী বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।
সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল, সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে বাংলাদেশকে একটি প্রাণবন্ত অর্থনীতিতে পরিণত করতে সরকার নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
তিনি বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট সেই রূপান্তরের অন্যতম প্রথম পদক্ষেপ।
শামা জানান, বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ, বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় সুবিধা এবং প্রক্রিয়াগত সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিনিয়োগের অগ্রাধিকার খাত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জ্বালানি, বস্ত্র, তৈরি পোশাক (আরএমজি), কৃষি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) বিনিয়োগের একটি নতুন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, কুটিরশিল্প, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়।
তিনি বলেন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ব্লু ইকোনমি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত, যেখানে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ দেখছে।
তিনি বলেন, ‘ব্লু ইকোনমি আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।’ এ খাতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান ভূমিকা হচ্ছে অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে নতুন বাজার, বিনিয়োগের উৎস এবং অর্থনৈতিক সুযোগ চিহ্নিত করা। এ কাজে বাণিজ্য, অর্থ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকার অর্থনীতির বহুমুখীকরণে কাজ করছে। একই সঙ্গে নারী, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী এবং সমাজের অন্যান্য শ্রেণির মানুষ যেন উন্নয়নের সুফল পায়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।
শামা বলেন, বিনিয়োগকারীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের একত্রিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতেও এ ধরনের আরো গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করবে।
No Comment Yet